নির্বাচনী সামগ্রী ভোটের সকালে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চিন্তা নির্বাচন কমিশনের

ভোট কেন্দ্রে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিলমারা বন্ধে নির্বাচনী সামগ্রী ভোটের সকালে কেন্দ্রে পৌঁছানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদায়ী নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। দশ মাস নির্বাচন কমিশনে সচিবের দায়িত্ব পালন করে সংলাপ শুরুর প্রাক্কালে শিল্পমন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি হয়েছেন এ কর্মকর্তা। আর ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা হেলালুদ্দীন আহমদ ইসিতে আসছেন ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসাবে। শেষ কর্মদিবসে মঙ্গলবার বিদায়ী ইসি সচিব আব্দুল্লাহ জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে ইসি। ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও কেন্দ্র দখল করে সিলমারা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর কথা ভাবা হচ্ছে। অনেক রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সুপারিশ করেছেন। আগামীতে সংলাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে ইসি ইতিবাচক ভূমিকা নেবে বলে আমি মনে করি। বর্তমান নিয়মে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। ভোটের দিন নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছানোর সুবিধার্থে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে কমিশনে। ভোট ব্যবস্থাপনায় ইভিএম নিয়ে আলোচনা চললেও তা নিয়ে সবার মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন। তবে ভোটকেন্দ্র ‘স্মার্ট’ করতে ইতোমধ্যে কমিশন কয়েক ধাপ এগিয়েছে বলে জানান বিদায়ী সচিব। তিনি বলেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব কমিয়ে এনে কেন্দ্রের গোপনকক্ষে ফোল্ডার বোর্ড ব্যবহারের প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেবে কমিশন। নির্বাচন সামগ্রী হিসাবে অনেক কাগজপত্র নিতে চটের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। গালা, মোমবাতি, দিয়াশলাই, সুঁই-সুতা, রাবার সিলসহ সনাতনী অনেক জিনিসপত্র নিতে হয় কেন্দ্রে। প্রিজাইডিং অফিসারকে কাপড় কেনার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়। তারপর কোথাও ব্ল্যাকবোর্ড, কোথাও টেবিল লাগিয়ে ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষ (মার্কিং প্লেস) সাজানো হয়। সিল মারতে রাবার স্ট্যাম্পের প্যাডে আলাদা কালি ব্যবহার করতে হয় বলে অনেক সময় জামা-কাপড়ও নষ্ট হয়। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, কমিশন চিন্তা করছে, নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে কীভাবে আরও স্মার্ট করা যায়। প্রিজাইডিং অফিসারের চাপ কমিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া কী করে আরও সহজ করা যায়। ভোটকক্ষের গোপন কক্ষের বেষ্টনী আরও আধুনিক ও স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্যে ব্যয়বহুল হলেও উন্নতমানের ফোল্ডিং বোর্ড ব্যবহার করা হবে। ভোট শেষে সেগুলো ভাঁজ করে উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, সরঞ্জামের ব্যাগটাও স্মার্ট হতে পারে। ওই ব্যাগ কে খুলছে তার রেকর্ডও যাতে সেখানে থাকে। রাবার স্ট্যাম্পের পরিবর্তে অটোসিল ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। মার্কার পেনও হবে উন্নতমানের। আরও কী কী বিষয় স্মার্ট করা যায় সেগুলো নিয়ে কমিশন উদ্যোগী। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন মঙ্গলবার রাতে বিদায়ী ইসি সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানায়। রোববারের মধ্যে নতুন সচিব যোগ দেবেন কমিশনে।