জঙ্গিবাদ নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান বিএনপির

bnpজঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো ‘রহস্য’ তৈরি না করে তা নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গুলশান হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গতকাল শনিবার দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান। গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হওয়ার পর জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপি। রিজভী বলেন, আমরা চাই, কোনো ধরনের রহস্য যেন তৈরি না হয়। বাইরের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এটা আইএস করছে; সরকার বলছে, না। এগুলোর মধ্য দিয়ে যে রহস্য দানা বেঁধেছে, সেই রহস্য এবং কুজ্ঝটিকা সরানোর দায়িত্বও সরকারের। মানুষের মন থেকে সকল শঙ্কা ও আশঙ্কা দুরীভূত করার দায়িত্ব ক্ষমতাসীনদের। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে রিজভী বলেন, যতবারই শুনেছি যে ক্ষমতাসীনরা নির্মূল করছেন, তারপরও দেখা গেছে যে কোথাও না কোথাও উগ্রবাদ তার হিং¯্র থাবা মেলেছে, তার হিং¯্র কামড় দিয়েছে। গুলশান হামলার বিচার এখনও শুরু না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা। এখনও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বা প্রশাসন এখানে কী ধরনের কাজ করছে, আমরা বলতে পারছি না। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এদের গুহাগুলো কোথায়, এদের নেটওয়ার্ক কোথায়- তা যদি অনুসন্ধান করে চিহ্নিত করা যেত, তাহলে আর পুনরাবৃত্তি হত না, আর এ সমস্ত ঘটনা ঘটত না। যে হরি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তার প্রথম বার্ষিকীতে গতকাল শনিবার দলের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী শ্রদ্ধা মঞ্চে ফুল দেন রিজভী। প্রতিনিধি দলে ছিলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, শায়রুল কবির খান ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন। রিজভী বলেন, দেশ ও জাতির জন্য আজকের দিনটি একটি কালো অধ্যায়। দেশ-বিদেশের এতগুলো মানুষ উগ্রবাদী জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়া নিঃসন্দেহে আমাদের আবহমান বাংলার যে সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সেখানে কলঙ্ক তিলক এঁকে দিয়েছিল। জঙ্গি দমনে সব দলকে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম শুরুর দাবি তখনই তুলেছিল বিএনপি। রিজভী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, একটা সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের মধ্যে বিভিন্নভাবে যে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক চেপে বসেছে, সেটাকে উৎখাত করা হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের দিকে থেকে এই ধরণের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ আমরা দেখিনি। এটা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের কাজ নয়। এটি হচ্ছে জাতির সামগ্রিক পদক্ষেপের একটি বিষয়। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।