নিজের পদত্যাগপত্রে কোহলির কথাই বললেন কুম্বলে

নিজের পদত্যাগপত্রটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করেই বিতর্কের নতুন সলতে জ¦ালিয়ে দিয়েছেন অনিল কুম্বলে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও এর কারণটা তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। পদত্যাগপত্রের শুরুতেই কোচ হিসেবে তাঁর মেয়াদকালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও খেলোয়াড়দের। কৃতিত্বের তালিকায় যে কোচও থাকছে, সেটিও উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ করেছেন অন্য কোচিং স্টাফদের কথাও। কুম্বলে জানতে পারেন ভারতীয় দলে কোচের পদে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে অধিনায়ক কোহলির আপত্তির কথা। একই সঙ্গে জানতে পারেন তাঁর কোচিং-স্টাইলও অধিনায়কের পছন্দ নয়। ভারতের সাবেক এই লেগ স্পিনার তাঁর পদত্যাগপত্রে ব্যাপারটি নিয়ে বিস্ময়ই প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, আমি ব্যাপারটা শুনে খুব অবাক হয়েছি। কোচ ও অধিনায়কের সম্পর্কের সীমা আমি সব সময়ই মেনে এসেছি। বোর্ড কোচ ও অধিনায়কের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি আর হওয়ার নয়। তাই আমি ভাবলাম সরে যাওয়াই ভালো। আক্ষেপ করেই কুম্বলে লিখেছেন, পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সততা ও চিন্তাভাবনার ভিন্নতাÑআমি দলে এসবই আনতে চেয়েছি। এসবের মূল্য দেওয়া উচিত ছিল। কোচের ভূমিকাটা আসলে একটা আয়নার মতো, যাতে খেলোয়াড়েরা নিজেদের দেখতে পায়। নিজেদের দেখে উন্নতি করতে পারে। এদিকে পদত্যাগের আগেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) উপদেষ্টা কমিটি (সিএসি) পরিস্থিতি উন্নতির চেষ্টা চালায়। কিন্তু শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী ও ভিভিএস লক্ষ্মণের সিএসি তাতে ব্যর্থই হয়েছে। অধিনায়কের আপত্তির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে কাজ করে যাওয়াটা আত্মসম্মানেই বেধেছে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সফল এই স্পিনারের। কুম্বলের পদত্যাগ আলোড়ন তুলেছে ভারতীয় ক্রিকেটে। সাবেক স্পিনার বিষেণ সিং বেদী অবাক নন কুম্বলের এই পদত্যাগে। তাঁর মতে, কোনো আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি এমন পরিবেশে কাজ করতে পারেন না। সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, কুম্বলের পদত্যাগকে ভারতীয় ক্রিকেটের কালো অধ্যায়ই।