সাঙ্গাকারা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখটা দেখতে পাচ্ছেন

81

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন বেশ আগেই। ইংলিশ কাউন্টি লিগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটটা খেলে যাচ্ছিলেন। খেলার জন্য খেলা নয়, রীতিমতো ভালো খেলছিলেন। কিন্তু এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকেও গুডবাই জানাচ্ছেন কুমার সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট কিংবদন্তি মনে করেন, খেলোয়াড় হিসেবে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার সময়টা এসেই গেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইংলিশ কাউন্টি মৌসুম শেষেই পুরোপুরি ‘সাবেক’ হয়ে যাবেন টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটসম্যান। ইংলিশ কাউন্টিতে সারের হয়ে খেলছেন। গতকাল শেষ হওয়া মিডলসেক্সের বিপক্ষে ম্যাচে করেছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। এখনো ইচ্ছা করলে শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরাটা কোনো ব্যাপারই নয় তাঁর কাছে। কিন্তু সাঙ্গাকারা জানেন, সব সময় সবকিছু করা যায় না। ক্রিকেট খেলে সম্মান কুড়িয়েছেন আকাশছোঁয়া। দেশের হয়ে বৈশ্বিক ট্রফিও জিতেছেনÑ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৩৪টি টেস্ট খেলে ৫৭.৪০ গড়ে করেছেন ১২ হাজার ৪০০ রান। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মোট রান ২৬ হাজার ৬৩৪। ওয়ানডে খেলেছেন ৪০৪টি। কেবল একটাই আক্ষেপÑওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০০৭ ও ২০১১ সালে পরপর দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও শ্রীলঙ্কাকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও মনের আনন্দেই এত দিন খেলে যাচ্ছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতোই বিপুল সম্মান নিয়েই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা এই লঙ্কান কিংবদন্তির, ‘আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আমার বয়স ৪০ পেরিয়ে যাবে। এটাই আমার শেষ কাউন্টি মৌসুম। আমি সম্মান থাকতে থাকতেই বিদায় নিতে চাই।’ নিজের এই বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তটা কিছু দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে চান সাঙ্গাকারা, ‘অবশ্যম্ভাবী ব্যাপারগুলোর সঙ্গে লড়াই করে আপনি যদি এগিয়ে যান, তাহলে আপনার সরে যাওয়াই উচিত। অনেকে একটা ভুল করে, সে যতটা ভালো নয়, নিজেকে তার চেয়ে ভালো ভাবে। এটা বিরাট ভুল। ক্রিকেটার অথবা যেকোনো ক্রীড়াবিদেরই খেলোয়াড়ি জীবনের একটা মেয়াদ থাকে, মেয়াদোত্তীর্ণের সেই তারিখটা আমার ক্ষেত্রে চলে এসেছে। আমি দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলেছি, এ জন্য সত্যিই আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তবে ক্রিকেটের বাইরেও আমার একটা জীবন আছে। আমি এখন সেই জীবনটাই পুরোপুরি উপভোগ করব।’