সৌম্যকে আবারও তাঁর মতোই দেখা যাচ্ছে

সৌম্য সরকার ফিরছেন। তাঁর ব্যাট আবার হাসতে শুরু করেছে। যে দারুণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল, মাঝে সেটি ফিকে হয়ে এলেও সৌম্যকে আবারও তাঁর মতো করেই দেখা যাচ্ছে। ডাবলিনের ক্লনটার্ফে ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় দেড় বছর পর ৬১ করার পর মালাহাইডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেললেন অপরাজিত ৮৭ রানের এক ম্যাচজয়ী ইনিংস। ২০১৫ সালের দিকে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই স্বপ্নময় ইনিংসগুলোর মতো না হলেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ইনিংসটি দেড় বছর আগের সৌম্যকেই যেন ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের মতে, ‘খারাপ সময়ে তাঁর প্রতি টিম ম্যানেজমেন্ট যে আস্থা রেখেছিল, সৌম্য তার প্রতিদান দেওয়া শুরু করেছে।’
২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অভিষেক। সেই ম্যাচ অবশ্য স্মরণীয় হয়ে আছে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের হ্যাটট্রিকের কারণে। সেই ম্যাচে কিন্তু সৌম্য নিজের আগমনী বার্তাটা ঠিকই দিয়ে রেখেছিলেন ১৮ বলে ২০ রান করে। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপÑআলাদা করেই নজর কাড়লেন ক্রিকেট দুনিয়ার। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই ভালো খেলেছেন। হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পেলেন দারুণ এক ফিফটি। তবে সৌম্য নিজেকে অন্য মাত্রা দিলেন বিশ্বকাপের পরপরই, দেশের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। পাকিস্তানের বিপক্ষে পেলেন ক্যারিয়ারে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, ১২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জেতালেন, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও খেললেন অসাধারণ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ঢাকায় ৮৮ রান করে অপরাজিত থাকলেন। চট্টগ্রামে ৯০ রানে আউট হলেন। নিজেকে পরিণত করলেন এ দেশের ক্রিকেটের নতুন ‘সেনসেশন।’
এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে সৌম্যর কাছ থেকে যখন আরও অনেক কিছুর প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের, ঠিক তখনই নিজেকে কেন যেন হারিয়ে ফেললেন। গোমড়া হয়ে গেল তাঁর ব্যাট। হারিয়ে ফেলল স্বাভাবিক ছন্দ। দীর্ঘ সময় ধরে চলল তাঁর রানখরা। জাতীয় দল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেই আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে সৌম্যর প্রতিভা আর সামর্থ্যরে প্রতি আস্থা রাখলেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, জাতীয় দলের নির্বাচকেরা। ছোট্ট ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন দুটোরই স্বাক্ষী হয়ে থাকলেন সাতক্ষীরার এই ব্যাটসম্যান।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে পরপর দুটি ফিফটি পেলেও সৌম্যর কাছ থেকে হাবিবুলের প্রত্যাশাটা আরও বেশি, ‘শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সৌম্য যা খেলেছে, সেটা ওর স্বাভাবিক পারফরম্যান্স। আমি খুব খুশি সে ছন্দে ফিরছে। কিন্তু খুব উচ্ছ্বসিত নই। আমি চাই সৌম্য আরও ভালো করুক।’
সামনেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড। খুব কঠিন গ্রুপ। হাবিবুল মনে করেন, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সৌম্যকে খুব বড় ভূমিকা রাখতে হবে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর পারফরম্যান্সই কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ভিত গড়বে। সে পেস ও বাউন্স আছেÑএমন উইকেটে ভালো করে, সেটি নিউজিল্যান্ডেও দেখা গেছে, আয়ারল্যান্ডেও দেখছি। ইংলিশ উইকেটেও সে আশা করি ভালোই। সে বাংলাদেশের ক্রিকেটের খুব বড় সম্পদ। আমার ভালো লাগছে এটা দেখে যে সে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিয়েছে, তাদের সবার মুখ রেখেছে।’