বিদ্যুৎ সংযোগে ঘুষ বাণিজ্য ঠেকাতে আরইবির উদ্যোগ

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রাহক পর্যায়ে সংযোগ প্রদানে ঘুষ বাণিজ্য ঠেকাতে মাঠে নেমেছে। মাঠপর্যায়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অনেক দিন ধরেই ঘুষ বাণিজ্য চলে আসছে। ফলে সারাদেশের বিদ্যুত বিতরণে আরইবি আন্তরিক হলেও তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের বিদ্যুৎ সংযোগের দুর্নীতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সারাদেশের পল্লী বিদ্যুত সমিতিগুলো প্রতি মাসেই ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহককে বিদ্যুত সংযোগ দেয়। অভিযোগ রয়েছে টাকা দিলেই দ্রুত সংযোগ মেলে। তা না হলে গ্রাহককে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। সেক্ষেত্রে ঠিকাদার আর স্থানীয় দালাল চক্রকে দিয়ে আবাসিক সংযোগে অন্তত ৫ হাজার টাকা আর শিল্প বাণিজ্যিক সংযোগে আরো বেশি টাকা ঘুষ নেয়া হয়। এখন দালাল ও দুর্নীতিবাজদের রুখতে সারাদেশে ৮০ পল্লী বিদ্যুত সমিতি এলাকায় মাইকিং করাসহ পত্রিকা, পোস্টার, লিফলেট, বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে। তাছাড়া স্কুল, মক্তব, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধে সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। আরইবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে তৃণমূলে বিদ্যুত লাইন নিয়ে দেয়ার বিষয়ে এক শ্রেণীর দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। তারাই মাঠপর্যায়ে লাইন দেয়ার বিষয়ে গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করে থাকে। আর ঠিকাদার হিসেবে আরইবিতে যারা কাজ করে তারা ওই দালাল চক্রকে প্রতিপালন করে। তারা এলাকায় এতোটাই প্রভাবশালী যে গ্রাহক তাদের বিষয়ে কোথাও অভিযোগ করলে নানা অজুহাতে সংযোগ ঝুলিয়ে রাখা হয়। আর টাকা না দিলে গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয় না।
সূত্র জানায়, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সকলের ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। আর আরইবি সরকারের ওই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। যদিও সেক্ষেত্রে সব থেকে বড় সমস্যা মাঠপর্যায়ে আরইবির ব্যাপক দুর্নীতি। ঘুষ বাণিজ্যের জন্য ঠিকাদারদের দুষলেও আরইবির ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা সাথে জড়িত। তা না হলে দিনের পর দিন এমন দুর্নীতি চলতে পারতো না। এদিকে বিদ্যুত সংযোগে দুর্নীতি বন্ধের জন্য সম্প্রতি আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে নিয়োজিত ঠিকাদারদের সাথে মতবিনিময় করেন। ওই বৈঠকে আরইবি চেয়ারম্যান বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৩৭ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুত সংযোগ দিয়েছে। এ অর্থবছরে ইতোমধ্যে ৩০ লাখের বেশি সংযোগ দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো মাসে ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ঠিকাদার ও তার লোকজন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে প্রায়ই এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা প্রমাণিতও হয়েছে। ঠিকাদারদের অনৈতিক কর্মকা- এবং গাফিলতির কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাতে আরইবির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এখন থেকে ঠিকাদার এবং তার লোকজন দুর্নীতি করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।