রোমাঞ্চকর রান তাড়ায় উইন্ডিজের জয়

106

একজনের ক্যারিয়ার এখনও হাঁটি হাঁটি পা পা। আরেকজনের মূল পরিচয় স্পিনার। এই দুজনে মিলেই ব্যাট হাতে গড়লেন নতুন ইতিহাস। জেসন মোহাম্মেদ খেললেন অসাধারণ এক বিধ্বংসী ইনিংস। সঙ্গে অ্যাশলি নার্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ওয়ানডেতে তিনশ রান তাড়ায় প্রথমবার জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে শুক্রবার পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান তুলেছিল প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের রেকর্ড ৩০৮ রান। সেই রেকর্ড অতীত হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টা পরই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জেতে ১ ওভার বাকি রেখে।গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের দলটি আগে কখনোই তিনশ রান তাড়ায় জিততে পারেনি। ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৯৭ রান টপকে জয় ছিল আগের সর্বোচ্চ। ৫৮ বলে অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক জেসন মোহাম্মেদ। শেষ দিকে ১৫ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে নার্স ধরেছেন আদর্শ সঙ্গত। বড় রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস প্রথম ভাগ এগিয়েছে ঝিমিয়ে। শুরুতে চ্যাডউইক ওয়াল্টনকে হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন এভিন লুইস ও কাইরান পাওয়েল। কিন্তু জুটি রান রেট ছিল ওভার প্রতি চারের নিচে। দলের একশ পেরুতেই লেগে যায় ২৪ ওভার! ৬৩ বলে ৪৭ করে হাফিজের বলে বেল্ড হন লুইস। পাওয়েল ও শাই হোপ পরের দিকে কিছুটা গতি বাড়িয়েছেন। কিন্তু দুজনই আউট হন রান বাড়ানোর তাড়ায়। ৮৬ বলে ৬১ করেছেন পাওয়েল। শেষ ১৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৫০। সেখান থেকেই জেসনের তা-ব শুরু। পাকিস্তানের পেস-স্পিন, কিছুই পাত্তা দেননি ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ৩১ বলে করেন অর্ধশতক। ষষ্ঠ ওয়ানডেতে তার তৃতীয় পঞ্চাশ। এক পাশে কার্টার-হোল্ডার বিদায় নিয়েছেন। আরেক পাশে জেসন ঝড় তুলেছেন। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৭। নার্স এসে সহজ করে দিয়েছেন সেই কাজ। মাত্র ২৭ বলে ৫০ রানে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়েছেন দুজন। ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৮ বলে ৯১ করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন জেসন।
টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ানদের দারুণ ভোগানো শাদাব খান ওয়ানডে অভিষকে রাখতে পারেননি ততটা প্রভাব। ২ উইকেট নিয়েছেন, তবে ৯ ওভারে গুণেছেন ৫২ রান। শেষের ঝড়ের আগে বল হাতেও নার্স ছিলেন দলের সফলতম। অফ স্পিনে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তবু ম্যাচের প্রথম ভাগটি ছিল পাকিস্তানের। কামরান আকমল ও আহমেদ শেহজাদ ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন ১৫ ওভারেই। প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা আকমল ৪৭ করে আউট হন ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। দ্বিতীয় উইকেটে শেহজাদ ও হাফিজের জুটি ৬৪ রানের। দলে ফেরা শেহজাদ করেছেন ৮৩ বলে ৬৭। পরে বাবর আজমকেও হারিয়ে একটু কমে গিয়েছিল পাকিস্তানের রানের গতি। সেটা দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে যেন চতুর্থ জুটিতে। ৫৬ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন হাফিজ ও শোয়েব মালিক। সেটির মূল কারিগর মালিক, ৩৮ বলে করেছেন ৫৩। মন্থর সূচনার পর দারুণ খেলে শেষ পর্যন্ত হাফিজও করেন ৯২ বলে ৮৮। পাকিস্তান তোলে মাঠের রেকর্ড রান। তখন কে জানত, নতুন রেকর্ড গড়তে ব্যাটে শান দিচ্ছেন জেসন মোহাম্মেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩০৮/৫ (শেহজাদ ৬৭, আকমল ৪৭, হাফিজ ৮৮, বাবর ১৩, মালিক ৫৩, সরফরাজ ২০*, ইমাদ ৬* ; জোসেফ ০/৪৯, গ্যাব্রিয়েল ০/৬৯, জেসন ০/২৮, হোল্ডার ১/৫৮, নার্স ৪/৬২, বিশু ০/৩৬)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৯ ওভারে ৩০৯/৬ (লুইস ৪৭, ওয়ালটন ৭, পাওয়েল ৬১, হোপ ২৪, জেসন ৯১*, কার্টার ১৪, হোল্ডার ১১, নার্স ৩৪*; আমির ২/৫৯. হাসান ০/৪৩, হাফিজ ১/৩৫, মালিক ০/২৪, ওয়াহাব ১/৬৯, শাদাব ২/৫২, ইমাদ ০/২১)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জেসন মোহাম্মেদ
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে