কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপনারণ বিষয়ে পর্যালোচনা সভা

75

DSC00729চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন গৃহীত কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি বিষয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর সুষ্ঠুভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে ১৩টি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন এসভার আয়োজন করে।
স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র উপ-পরিচালক মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। সভায় নিজ-নিজ কার্যক্রম তুলে ধরেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. সাইদুর রহমান, রহনপুর পৌরসভার মেয়র তারিক আহমদ, নাচোল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান, শিবগঞ্জ পৌরসভার সচিব মোবারক হোসেন। কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে পরামর্শ তুলে ধরেন, প্রবীণ সাংবাদিক মো. তসলিম উদ্দিন, সমাজ সেবক মনিম উদ দৌলা চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-৩ মতিউর রহমান মটন মিঞা, রেডিও মহানন্দার সহকারী স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল বারী, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, মুক্তমহোদলের মুশফিকুর রহমানসহ অন্যারা।
জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন-সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানিরি পশু জবাই করতে হবে এবং সঙ্গেসঙ্গে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। তবে কমিউনিটির লোকজনদের দীর্ঘদিনের এক সাথে একস্থানে কোরবানি করার যে নিয়ম বা প্রথা চালু আছে তা যদি নির্দেশনা মেনে বহাল রাখা যায় তাহলে অসুবিধা হবে না। তবে পশু জবাইয়ের স্থানে বর্জ্য অপসারণের সঙ্গেসঙ্গে ব্লিচিং দিতে হবে, যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ওই ২টি ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় করা হবে বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
বক্তারা বলেন-আগামী কোরবানির ঈদের আগেই যেসব ইমাম ও মোয়াজ্জিন কোরবানির পশু জবাই করেন-তাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। তারা যেন যেখানে সেখানে কোরবানির পশু জবাই না করেন। সেসাথে জনসাধারণকেও সচেতন করতে হবে। মনে রাখতে হাবে কোনভাবেই যেন পরিবেশ দূষিত না হয়।
এবছর কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে সরকারের দেয়া ১৩ টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। কর্মপরিকল্পনাগুলো হলো, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃক ২০১৬ সালের কোরবানীর অভিজ্ঞতার আলোকে ২০১৭ সালের কোরবানির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ, কোরবানির স্থান নির্ধারণ ও কোরবানী প্রদানের উপযোগিকরণ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্তদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, অর্থ সংস্থান, ইমাম, মাওলানা ও কসাইদের নির্ধারিত স্থানে কোরবানী প্রদান প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্তকরণ, নির্ধারিত স্থানে কোরবানী অনুষ্ঠানকে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া, কসাইদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জনমত গঠন ও প্রচারণা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্থান নির্ধারণে বিভিন্ন সোসাইটি বা সমাজ ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া, বেসরকারী সংস্থা বা এনজিও এর সাহায্য নেওয়া, বিভিন্ন পশু পালন খামারকে সম্পৃক্তকরণ, কোরবানির পশু হাটে ভেটেরিনারী মেডিক্যাল টিমকে সহযোগিতা করা।