শ্রীলঙ্কার দুঃস্বপ্নের ভেন্যুতে বাংলাদেশ

02-বাঁচা-মরার ম্যাচে সহজ জয়ের পর হুঙ্কারটা দিলেন উপুল থারাঙ্গা, টি-টোয়েন্টিতে কিন্তু আমরা অন্য দল। দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছি তাদের মাটিতে। তবে ইতিহাস বলছে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভেন্যুতে সেই ‘অন্যরকম’ লঙ্কান দলের রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয়। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবকে পেছনে ফেলে ‘শ্রীলঙ্কার হোম অব ক্রিকেট’ এখন আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা আছে এখানে। স্টেডিয়ামটি দেখতেও সুন্দর। কলম্বোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই স্টেডিয়াম শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটেরও প্রাণ। সেই মাঠে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কিছু একটা যেন হয় স্বাগতিকদের। সেই ২০০৯ থেকে আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিয়মিত এই সংস্করণে খেলছে শ্রীলঙ্কা। ১১ ম্যাচের মধ্যে জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়তে পেরেছে মোটে একবার। হেরেছে বাকি ১০টিতেই!
এই মাঠে নিজেদের শেষ ৬ ম্যাচেই টানা হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টিতে প্রেমাদাসা যেন স্বাগতিকদের দুঃস্বপ্নের ভেন্যু। গল ছাড়া চলতি সিরিজে আর যে ভেন্যুতে খেলেছে বাংলাদেশ, সেখানে ছিল বাজে অনেক স্মৃতি, কোনো কোনোটা দুঃস্বপ্নের মতো। এবার এমন ভেন্যু পেয়েছে, যেখানে অতীত ভুলতে চাইবে স্বাগতিকরাই। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ ড্র করা শ্রীলঙ্কা তাকিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার মাশরফি বিন মুর্তজার দলের মুখোমুখি হবে তারা।
থারাঙ্গার বিশ্বাস, ২০ ওভারের ক্রিকেটে স্বরূপে দেখা যাবে লাসিথ মালিঙ্গাকে। তার উপস্থিতিতে শক্তি আরও বাড়বে স্বাগতিকদের।
টেস্টে পর ওয়ানডে সিরিজও ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। অতিথিদের লক্ষ্যটা পরিষ্কার, জয় দিয়ে শেষ করা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতে জয়ের স্মৃতিও বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা। এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলে চারটিতে হেরেছে বাংলাদেশ, জিতেছে ওই একটিতে। ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে দুই দলের দেখায় বাংলাদেশ হেরেছিল ৬৪ রানে। ২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে স্বাগতিকরা জিতেছিল ১৭ রানে। ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে দুটি ম্যাচই মাশরাফির দল হেরেছিল শেষ বলে। ক্রমশ ব্যবধান কমিয়ে আনা বাংলাদেশ গত বছর ফেব্রুয়ারিতে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে উঠেছিল ফাইনালে। তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দিকে মাশরাফির মনোযোগ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সবে বুঝে উঠতে শুরু করছে বাংলাদেশ। তবে হঠাৎ আসা দুয়েকটা সাফল্যই এখন পর্যন্ত এই সংস্করণে তাদের প্রাপ্তি। কতটা অধারাবাহিক র্যা ঙ্কিংও দেখাচ্ছে তা, আফগানিস্তানেরও পিছনে, ১০ নম্বরে। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা আছে ৮ নম্বরে। র্যা ঙ্কিং আর শক্তি দুই দিক থেকেই দল দুটি কাছাকাছি। মাশরাফির বিশ্বাস, একটি স্পেল বা একটি ইনিংস পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুই দলের মধ্যে। অধিনায়ক চান সেই স্পেল, সেই ইনিংস আসুক তার সতীর্থদের কাছ থেকে। তাদের ওপর আস্থা রেখেই সিরিজ দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এগিয়ে যাওয়ার পথ চলা শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ জিততে না পারার হতাশা ভুলতে ঘরে তুলতে চায় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।