হেলস-রুটের সেঞ্চুরিতে হোয়াইওয়াশড ওয়েস্ট ইন্ডিজ

05-Engআলজারি জোসেফের শর্ট বলে পুল শট। ব্যাটে ওপরের কানায় লেগে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা। ব্যাটসম্যানের বাঁধনহারা উল্লাস। ধারাভাষ্য কক্ষে ফাজির মোহাম্মদের উচ্চারণ, অ্যালেক্স হেলসৃ ইনজুরড ইন ইন্ডিয়া, সেঞ্চুরি অ্যাট বারবাডোজ! সেই হেলস। নিরাপত্তা শঙ্কায় আসেননি বাংলাদেশে। চোটের থাবায় যেতে পারেনি ভারতে। ছিলেন না এই সিরিজেও; ম্যাচের মাত্র দুদিন আগের সিদ্ধান্তে পাঠানো হয়েছে ক্যারিবিয়ানে। ২২ গজে ফিরেই করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি! দারুণ এক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন ইংলিশ ক্রিকেটের ‘গোল্ডেন বয়’ জো রুটও। দুজনের সেঞ্চুরিতে যে উচ্চতায় উঠল ইংল্যন্ডের স্কোর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পারেনি তার অর্ধেক করতেও। শেষ ওয়ানডেতে ১৮৬ রানের জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করল ইংলিশরা। অথচ তিনটি ম্যাচেই টস হেরেছিল ইংল্যান্ড। টস হেরেও সব ম্যাচে জয়, ইংল্যান্ড সবশেষ করেছিল ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ১৮৬ রানের এই হার দেশের মাটিতে ক্যারিবিয়ানদের সবচেয়ে বড় হার। সেটিও এক সময়ের দুর্গ, তাদের গর্বের ভেন্যু ব্রিজটাউনে! উইকেট ছিল ঘাসের ছোঁয়া। সেটি কাজে লাগাবেন বলেই বোলিং নিয়েছিলেন জেসন হোল্ডার। উইকেট একটু কঠিন ছিল বটে। তবে ঘাসের জন্য নয়! একটু স্যাঁতস্যাতে। বল আসছিল থেমে। শুরুতে তাই শট খেলা ছিল কঠিন। জেসন রয়কে হারিয়ে ১০ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৩৯। তবে থিতু হয়ে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন হেলস। আরেক পাশে এক-দুই রানে চাকা সচল রাখেন রুটও। গড়ে ওঠে দারুণ জুটি। ক্যারিবিয়ান ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়া ছিল যথারীতি। ১ ও ১২ রানে জীবন পান রুট। সেটি কাজেও লাগান দারুণভাবে। জোসেফকে ওই ছক্কায় ৯৯ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন হেলস। খানিক পর জোসেফকেই আবার ছক্কা মারার চেষ্টায় ফেরেন ক্যাচ হয়ে। ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৭ বলে ১১০। রুটের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটির রান ১৮৩ বলে ১৯২। পঞ্চাশ ছুঁতে রুটের লেগেছিল ৭১ বল। পরের পঞ্চাশ করেন ৩৬ বলেই। হেলসের মতো তিনিও ফেরেন সেঞ্চুরি ছুঁয়েই (১০১)। বোলার সেই জোসেফ। প্রচুর রান দিলেও নিয়মিত উইকেট নিয়ে ইংলিশদের একটু থমকে গিয়েছিলেন জোসেফ। কিন্তু স্টোকসের চার ছক্কায় ৩৪ রান ইংল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত এনে দেয় ৩২৮ রান। এই উইকেটে ২২০-২৪০ রানই বেশ ভালো স্কোর মনে হয়েছিল ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে সময় সেটির প্রমাণ হয়েছে আরও বেশি। ম্যাচে আগে ফিটনেস টেস্টে উতরে জায়গা পাওয় লিয়াম প্লাঙ্কেট ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে ৫ রানে নেন ৩ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেট হারায় ৪৫ রানে। জোনাথন কার্টারের ৪৬ ও শেষ ব্যাটসম্যান জোসেফের ২২ রানে হারের ব্যবধান হয়নি আরও বিব্রতকর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩২৮ (রয় ১৭, হেলস ১১০, রুট ১০১, বাটলার ৭, মর্গ্যান ১১, স্টোকস ৩৪, মইন ০, ওকস ১৩, প্লাঙ্কেট ১১, রশিদ ৯, ফিন ২*; হোল্ডার ৩/৪১, জেসেফ ৪/৭৬, বিশু ০/৪৪, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ০/৫৬, নার্স ১/৫৭, কার্টার ০/২৮, ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ০/২২)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৯.২ ওভারে ১৪২ (পাওয়েল ৬, লুইস ০, ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৫, হোপ ১৬, জেসন ১০, কার্টার  ৪৬, হোল্ডার ০, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ৭, নার্স ৬, বিশু ১০, জেসেফ ২২*; ফিন ২/৩৫, ওকস ৩/১৬, স্টোকস ১/২৭, প্লাঙ্কেট ৩/২৭, মইন ০/২৭, রশিদ ১/৫)।
ফল: ইংল্যান্ড ১৮৬ রানে জয়ী

SHARE