মহারাজপুরে নির্মিত হবে আধুনিক আম বাজার

DSC00122বিষমুক্ত আম বাজারজাত করার লক্ষে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর ফিল্টের হাটে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্বাধুনিক আম বাজার। অচিরেই দরপত্র আহবান করা হবে। তার আগে আম চাষী, ব্যবসায়ি, আম গবেষক, কৃষি বিশেষজ্ঞসহ সর্বস্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করার জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।  শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহারাজপুর হাটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, এই আম বাজারে স্বল্প মেয়াদে আম সংরক্ষণ, আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আম প্যাকেটজাত করা এবং মোড়ক ব্যবহার ব্যবস্থা থাকবে। দেশের মানুষ দেখেই যেন চিনতে পারে এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম। ভোক্তারা যেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ভেবে সাতক্ষিরা কিংবা অন্য কোন জেলার আম কিনে প্রতারিত না হয় সে জন্য থাকবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ব্র্যা-িং। এ ছাড়াও বিষ মুক্ত আম উৎপাদন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মোতাবেক সার কীটনাশক ব্যবহার, সারাবছর আম উৎপাদন, আমসত্ত্বসহ আমজাত পণ্য উৎপাদন এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারে তা বিপণন ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে মতবিনিময় সভায়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদ জানান, ২০১১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ওইদিন আমি ৭টি বাদি তুলে ধরেছিলাম। তার মধ্যে ছিল, আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি অন্যতম। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে কোন উদ্যোক্তা আম সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নিলে স্বল্পসুদে তাকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে এখনও সময় কেউ যদি হিমাগার বা আম সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেন তাহলে আমি আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা করবো। তিনি বলেন-আমি একটি আম প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বলেছিলাম, এই আম বছরে তিনবার উৎপাদন করা যায়, এটি ছাড়পত্র পেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী উপকৃত হবে এবং এ আমের নামকরণ করা হবে আপনার নামে। আব্দুল ওদুদ বলেন-এই আম বাজারের জন্য যখন টে-ার করতে যাচ্ছি ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী বললেন, এতবড় একটি কাজ করার আগে তোমরা এলাকার সকল সেক্টরে মানুষের মতামত সংগ্রহ করো। তা না হলে হয়ত কার্যকর হবে না। তাই এই মতবিনিময় করা। এ আম বাজার থেকে সারাদেশে আম যাবে এমনকি বিশ্ববাজারেও এখান থেকে আম যাবে। সে ব্যবস্থা করা হবে।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদ হোসেন খান জানান, প্রধানমন্ত্রির দপ্তর থেকে জেলা ব্র্যা-িংয়ের জন্য চিঠি দেয়া হয় এবং সেই চিঠির জবাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমেই আম এবং এরপর তীল, তামা-কাসা, মৃৎশিল্প এবং আতপ চাল উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের এক সভায় আমকে জেলা ব্যা-িংয়ের মধ্যে আনার প্রস্তাব করা হয়। জেলা ব্র্যা-িং করা গেলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে এই জেলার উন্নয়ন ঘটবে। এলজিইডির বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামিন অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মন্মথ রঞ্জন হালদার তার বক্তব্যে জানান, বর্তমান সময়টা হচ্ছে অনলাইনের। কিন্তু যেভাবে যেখানে সেখানে আম বাজারজাত করা হয় তাতে সেটা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন একটি পরিকল্পিত আম বাজার। যেখানে আম বাজারজাতকরণের সকল সুযোগসুবিধা থাকবে। ভোক্তারা যেখানে খুশি বসে এক ক্লিকেই জানতে পারবেন কোন আমের কী মূল্য বা দাম, আম বিষমুক্ত কী না। তিনি প্রধানমন্ত্রির নিদের্শনা পড়ে শোনান। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ২ তলা বিশিষ্ট আম ভবনের কৃষিমন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এবং আম গবেষণা ইনস্টিটিউটকে সম্পৃক্ত করতে হবে। দ্বিতীয় তলায় আম পরিবহনের জন্য র‌্যাম সংস্থান থাকতে হবে। সে অনুযায়ি নকশা তৈরী করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটি একটি পাইলট প্রকল্প। আপাতত ৫ থেকে ৭ দিন আম সংরক্ষণ করা যাবে তবে ভষ্যিতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আম বিজ্ঞানি ড. শরফ উদ্দিন তার বক্তব্যে জানান, ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষ আমের সাথে জড়িত। কিন্তু ভালোমানের আম বাজার না থাকায় সমস্যা হতো, এই বাজার চালু হলে সে সমস্যা থাকবে না এবং বিভিন্স্থান থেকে মানুষ আসবে, পর্যটকরাও ছুটে আসবে এখানে। তিনি জানান, ১২-১৩ ডিগ্রী তাপমাত্রা বজায় রাখা যায় তাহলে ৪ সপ্তাহ আম সংরক্ষণ সম্ভব। এটি গবেষণায় দেখা গেছে।  দৈনিক গৌড় বাংলার সম্পাদক হাসিব হোসেন বলেন-শুধু আম নয়, আমসত্ত্বসহ আমজাত পণ্য নিয়ে ভাবতে হবে। ইতোমধ্যে হটওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ব্যবহার করে বেশকিছুদিন আম সংরক্ষণ করা হয়েছে, প্রয়োজনে সে পদ্ধতিও কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি বলেন-এখান থেকে যে সুযোগ তৈরী হবে তা কাজে লাগাতে হবে। আমের প্যাকেটে আমের নাম এবং অবশ্যই জেলার নাম লিখে আম দেশে বা বিদেশে রপ্তানি করতে হবে। সাতক্ষিরা কিংবা অন্য কোন জেলার আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে আর যেন কেউ মুনাফা লুটতে না পারে।  মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এজাবুল হক বুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দাউদ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান ভূঞা, হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ড. সাইফুর রহমান, অধ্যক্ষ (অব.) মো. সাইদুর রহমান, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সেন্টু, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম, সভা পরিচালনা করেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী আনম ওয়াহিদুজ্জামান শাওন। এলজিইডি এই সভার আয়োজন করে।   সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আধুনিক মানের আম বাজার তথা এই ভবন নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা।  গ্রামিন অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ।