স্মৃতিকাতর মুশফিক…

107

03-শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন বোধ হয় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমই। যে ভেন্যুর সঙ্গে তাঁর দুর্দান্ত এক স্মৃতি জড়িত, সেখানে আবারও টেস্ট খেলবেন, এ তো দারুণ ব্যাপার। বাংলাদেশ দল নিয়ে সমুদ্র-শহর গলের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পা রেখেই স্মৃতিকাতর অধিনায়ক। চার বছর আগে এই মাঠেই যে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটির দেখা পেয়েছিলেন মুশফিক!টুইটারে তাঁর একটা পোস্ট দেখেও সেই ‘নস্টালজিয়া’টা বোঝা গেল। গল স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেছেন মুশফিক। বিখ্যাত গল দুর্গকে পেছনে রেখে তোলা ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছেন ‘হিস্টোরিক গল স্টেডিয়াম।’ ঐতিহাসিক শব্দটা একাধিক অর্থেই ব্যবহার করেছেন মুশফিক। এই মাঠে তাঁর ২০০ রানের সঙ্গে মোহাম্মদ আশরাফুলের ১৯০ ও নাসির হোসেনের ১০০ রানে বাংলাদেশ তুলেছিল ৬৩৮ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় রান। গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামেরও সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি।‘ঐতিহাসিক’ সেই টেস্টটিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে মুশফিকের জুটি ছিল ২৬৭ রানের। এটি ২০১৩ সালে ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। এরপর অবশ্য আরও দুটি ঐতিহাসিক জুটি বাংলাদেশের টেস্ট-রেকর্ডকে করেছে সমৃদ্ধ। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের ৩১২ রানের জুটি প্রথম গলের জুটিটিকে পেছনে ফেলে। পরে গল ও খুলনার দুই জুটিকে ছাড়িয়ে গেছে এ বছর জানুয়ারিতে ওয়েলিংটন টেস্টে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ৩৫৯ রানের জুটি। বড় এই তিনটি জুটিতেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান। ডাবল সেঞ্চুরি-কীর্তির শুরুটাও যে হয়েছিল এই গলেই। আগামী ৭ মার্চ গলেই শুরু হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট। সুখ-স্মৃতির গলে মুশফিক সাফল্যের তালিকাটা দীর্ঘ করতে পারলে মাঠটি কিন্তু আলাদা জায়গা পেয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে।