সাঁওতাল আদিবাসীদের শিক্ষার হার বাড়ছে

Exif_JPEG_420

শিক্ষাই পারে একটি জাতিকে সাফল্যের শেষ সোপানে পৌঁছে দিতে। তাই যে, জাতি যত বেশি শিক্ষিত সেই জাতি তত বেশি উন্নত। আর জাতি,গোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ সকলেরই শিক্ষার অধিকার রয়েছে। এই দেশে নারী শিক্ষার হার অনেকটাই বেড়েছে। পিছিয়ে থাকলেও আদিবাসী নারীদের শিক্ষার হারও কিছুটা হলেও বেড়েছে। আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগে আদিবাসী সাঁওতাল সমাজে শিক্ষার হার  কম ছিলো। আদিবাসী সাঁওতালরা  শিক্ষার দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে ছিলো। দরিদ্র্র ও অশিক্ষিত অভিভাবকরা ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাতে পারতো না। আর এই অশিক্ষিত মেয়েদেরকে বাল্যকালেই বিয়ে দিয়ে দিতো, তাই তারা নারী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো। এ সর্¤úকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের নাধাই কৃষ্ণপুর গ্রামের একজন বয়স্ক আদিবাসী নারী জবা হাঁসদার সাথে কথা বললে তিনি জানান “হামাদেরও সময়ে তেমনি কোন স্কুল ছিল না, পড়াশেনা কি সেটাও বুঝি না। হামরা মনে করি পড়াশুনা করে কি হবে। তাও ছেলেরা একটা দুটা স্কুলে যায়তোক ওটাও মেলা দূরে স্কুল ছিল । মেয়েরা আগে একদম স্কুলে যেতো না। হামরা মনে করতাম লেখাপড়া করে কি  হবে। তাই লেখাপড়া করতাম না। হামরা নারী শিক্ষাকে কোন গুরুত্ব দেইনি আর হামরা হামাদের ছেলে মেয়েকেও লেখাপড়হা শেখাইনি। তাই আগেকার সময়ে নারী শিক্ষার হার খুবি কম ছিল।  হামরা কোন দিন স্কুলে যায়নি। তাই হামাদের সমাজে অনেক নারী শিক্ষা থেকে  ঝরে পড়েছে। একজন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী শেফালি মারান্ডির সাথে কথা বললে জানান, “হামি মাত্র কøাস ফাইব পর্যন্ত পড়েছি. আর পড়তে পারিনি। হামার বাবা নাই মা অনেক গরিব হামাকে ছোটতে বিয়ে  দিয়ে দেয়”। আর একজন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী মেরিনা মুর্মুর সাথে কথা বললে জানান “হামার লেখাপড়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু পড়তে পারি নি। হামরা অনেক ভাই বোন, হামার মা বাবা সংসার চালাতে পারে না। সংসার চালাবে নাকি হামাদের লেখাপড়া করাবে এজন্য হামি লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন হামি বাড়িতে আছি কাজ কাম করছি মা বাবাকে সাহায্য করছি।” কিন্তু বর্তমানে সাঁওতাল আদিবাসীরাও শিক্ষার দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে। শিক্ষা সর্¤úকে ওই গ্রামের সচেতন ব্যক্তি মিলন সরেন জানান, আগের চেয়ে আমাদের সমাজে নারী শিক্ষার হার অনেকটা বেড়েছে। অনেকেই স্কুলে কলেজে পড়াশুনা করছে। পড়াশুনা করে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। বিশেষ করে অনেকেই এনজিওতে বেশি কাজ করছে। এই কাজ করে অনেক নারীরা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এনজিওতে কাজ করেন এমন একজন নারী লুইজিনার সাথে কথা বললে তিনি জানান “আমি আতাহার আলো ঘর কারিতাস স্কুলে ছেলে মেয়েদের পড়ায়। এখানে কাজ করে আমি অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। আমাদের সমাজে অনেক শিশু আছে যারা শিক্ষার আলো পায়নি অভাবের কারণে। এই শিশুগুলো শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মাথা উঁচু করে যেন বাঁচতে পারে, সে চেষ্টায় করছি। এটা সত্যি যে আগের চেয়ে এখন আমরা শিক্ষার দিক থেকে অনেকটা এগিয়েছি। শিক্ষা সর্¤úকে বালুগ্রাম আদর্শ ডির্গ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ নসম মাহবুবুর রহমান জানান“ আমার কলেজে পাঁচ জন আদিবাসী ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে। আদিবাসী শিক্ষার হার খুবই কম এবং যারা এখানে পড়াশোনা করতে আসে তারা কলেজ থেকে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। আসলে তাদের সচেতনতার অভাব। তাদের আর্থিক সামাজিক যে অবস্থা। তাদের মধ্যে বড় হওয়ার বা ভালো অবস্থায় যাওয়ার যে টেনডেনসি দরকার তার অভাব রয়েছে। সে কারণে তারা পড়াশোনায় এগিয়ে আসতে পারে না। এই অশিক্ষিত নারীরা তাদের ছেলে মেয়েদেরকে শিক্ষার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না। তাই এখন আদিবাসী সাঁওতালরা শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে আছে এবং তাদের সমাজটিও উন্নতি হচ্ছে না আর এই কারণে তারা দারিদ্র্য সীমার নিচ থেকে এখন বের হতে পারছে না। তবে আগের চেয়ে বর্তমানে বেশি না হলেও কিছুটা এগিয়েছে। আসুন আমরা সকলেই পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিই। যেন তারা আমাদের হাত ধরে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
ফেলো, রেডিও মহানন্দা