কমে যাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিদেশী অনুদান

hqdefaultদেশে বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিদেশী অনুদানের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, কৃষি, ত্রাণ ও দুর্যোগ খাতে এনজিওগুলো বিদেশি সহায়তা পাচ্ছিল। কিন্তু এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৮৫০ কোটি টাকার কম অনুদান এসেছে। তাছাড়া এনজিওগুলোর অর্ধশত প্রকল্পও কমেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র এনজিওর অনুদান বা প্রকল্প কমছে তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অনেক দাতা সংস্থাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ করে নতুন করে আর অর্থায়ন করছে না। আবার যারা অর্থায়ন করতে আসছে তারা অনেক যাচাই-বাছাই করছে। সব মিলিয়ে সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশের এনজিও খাত। এনজিও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পৃথিবীতে যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল বেড়ে যাওয়ায় দাতা সংস্থারা এখন সেদিকেই বেশি নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় দাতা সংস্থাগুলো সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে সেখানে। আবার বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে মধ্য আয়ের দেশের দিকে অগ্রগতির কারণেও দাতা সংস্থাগুলো অর্থায়ন কমাচ্ছে। পাশাপাশি গতবছর নতুন করে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন ২০১৬ করা হয়েছে। ওই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়েও এনজিওগুলোর আপত্তি আছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে অর্থ পেতে আরো সমস্যা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে এদেশে এনজিওর সঠিক সংখ্যা কতো তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। কারো কারো মতে ওই সংখ্যা ৫০ হাজার। আবার কারো মতে এক থেকে দেড় লাখ। তবে অধিকাংশ এনজিওই নিষ্ক্রিয়। দেশে সক্রিয় এনজিওগুলো সাধারণত সমাজসেবা অধিদফতর, মহিলাবিষয়ক অধিদফতর, সমবায় অধিদফতর, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধিত। তবে এনজিও ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রায় আড়াই হাজার এনজিও রয়েছে। তার মধ্যে ২৫০টি বিদেশি এবং ২ হাজার ২৪৪টি দেশি এনজিও। তাছাড়া গত ৭ বছরে আন্তর্জাতিক সহায়তা পেতো এমন ৫শ’ এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
সূত্র আরো জানায়, এনজিও খাতে গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার সহায়তা এসেছে স্বাস্থ্য খাতে। চলতি অর্থবছরেও অর্থ আসার পরিমাণ সেভাবে বাড়েনি। এমনকি প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যাও কম। স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময়ই প্রকল্পের পরিমাণ বেড়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যথাসময়ে নিবন্ধন নবায়ন না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এনজিও ব্যুরোর ৪৬৪টি বেসরকারি সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হয়। অবশ্য একই সময়ে শতাধিক এনজিও নতুন করে আবার নিবন্ধনও পেয়েছে। তবে অনেক এনজিওর অবস্থাই এখন আর আগের মতো ভালো নয়। মূলত অর্থায়নের অভাবেই ছোট ছোট অনেক এনজিও নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এনজিও খাতে সহায়তা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বর্তমানে অনেক দাতা সংস্থাই প্রকল্প শেষ করে নতুন করে অর্থায়ন করতে চাইছে না। তার একটি কারণ হলো বিশ্বে শরণার্থী সমস্যা বেড়ে যাওয়া। আবার এখন দাতারা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ করছে। তাছাড়া এনজিও সংক্রান্ত আইন নিয়েও দাতা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আছে। যদিও এখনো অনুদানের ওপর আইনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ও পুনর্বাসনের কারণে দাতাদের মনোযোগ কিছুটা সরে গেছে। তাছাড়া সেবা খাতে সরাসরি অনুদান না দিয়ে সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়ানোর ওপর দাতা সংস্থাগুলো মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর নানা অঞ্চলে যুদ্ধ-সংঘাত বাড়ছে। লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হচ্ছে। ফলে অনেক দাতা সংস্থারই নজর সেদিকে। আবার বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের দিকে যাচ্ছে। ওসব কারণে অনেকেই প্রকল্প শেষ করে নতুন করে আর অর্থায়ন করছে না।
অন্যদিকে এনজিও খাতে তহবিলের কোনো অভাব নেই বলে মনে করেন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম। তাঁর মতে, যদিও বিশ্বে শরণার্থী সমস্যা ও সংঘাত বেড়েছে। দাতাদের দৃষ্টি এখন সেদিকে। কিন্তু সেজন্য এনজিওগুলোকে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। পরিবর্তনশীল এই সময়ে যারা সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না তারাই সমস্যায় পড়বে।