রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও উন্নয়ন বঞ্চিত রহনপুর রেল বন্দর

IMG_20170205_115910চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেল বন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্য থেকে রাজস্ব আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯০ সালে স্থাপিত রহনপুর এলসি স্টেশন হিসেবে এ বন্দরটি চালু করা হয়। কিন্তু অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ভাড়া বাসায় প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এই স্টেশনের কার্যক্রম চলে এলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব অফিস ভবন নির্মাণ, পরীক্ষাগার, ওয়্যার হাউস, কাস্টমস অটোমেশন, ওয়েট ব্রিজ, ডাম্প ইয়ার্ড নির্মিত হয়নি। বিগত ৫টি অর্থ বছরে রহনপুর রেল বন্দর দিয়ে ৪শ ২টি র‌্যাক ভর্তি মালামাল আমদানি করা হয়। যার ওজন প্রায় ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪শ ৯৪ মে. টন। ১ কোটি ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৩৯ টাকার  মূল্যের বিপরীতে আদায়কৃত রাজস্ব আয় ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪শ ৭২ টাকা। এছাড়া চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১ম ৬ মাসে ২’শ ২১ টি র‌্যাকযোগে আনা ৫ লক্ষ ২০ হাজার ৩’শ ৮৭ মে. টন মালামালের বিপরীতে পণ্যমূল্য ধরা হয়েছে  ৪৮ কোটি ৪৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৯শ ৩৯ টাকা। যার আদায়কৃত রাজস্ব ২৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪শ ৫৩ টাকা। চলতি অর্থ বছরের ১ম ৬ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ৯১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। তার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪শ ৫৩ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪শ ৫৩ টাকা বেশী। এছাড়া শুধু গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কোটি ১৯ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা বেশী। রহনপুর রেলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সঞ্জিত কুমার আচার্য্য জানান, রহনপুর রেলওয়ে স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ বন্দরে পরিণত হলে রাজস্ব আয় দিন দিন লক্ষ্যমাত্রা আরও ছাড়িয়ে যাবে।

এর আগে রহনপুর রেলবন্দরে ইয়ার্ড বৃদ্ধি, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ও ওয়্যার হাউস নির্মিত হলে আমদানি-রপ্তানিকারকরা এ পথে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে এ রুটে ভারত থেকে মালামালের আমদানীকারকরা জানান, এ রেল বন্দরকে  পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরে রূপান্তর করতে রেলের পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। যা  দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ দখলে রয়েছে। এছাড়া রেলের বিবিন্ন সমস্যার কারণে মালামাল যথাসময়ে রেলযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।