সাব্বির স্টয়নিসের কাছে যা শিখতে পারেন

04-মার্কাস স্টয়নিসের ব্যাটিং দেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম টেস্টের কথা খুব মনে পড়ছে। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও বাংলাদেশ সে টেস্টটি হেরে গিয়েছিল মাত্র ২২ রানে। সাব্বির রহমান অপরাজিত ছিলেন ৬৪ রানে। টেল এন্ডারদের ব্যর্থতা কিংবা নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের ঠিকমতো দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাব্বিরের ব্যর্থতাতেই ম্যাচটা হারতে হয় বাংলাদেশকে।
আজ অকল্যান্ডে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান মার্কাস স্টয়নিসের প্রায় অসাধ্যসাধন করে ফেলার ইনিংসটি দেখে তিন মাসের আগের মন খারাপ করার ব্যাপারটি যেন আবার মাথাচাড়া দিল। সে ম্যাচে সাব্বির যদি নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের ঠিকমতো দিক নির্দেশনা দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো জয়ের এত কাছে গিয়েও হারতে হতো না বাংলাদেশকে।
চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে ২৮৭ রানের লক্ষ্যে একপর্যায়ে ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে স্টয়নিস ১৪২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন। সপ্তম, অষ্টম, নবম ও শেষ উইকেট জুটিতে জেমস ফকনার, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডকে নিয়ে গড়েছেন ৮১, ৪৮, ৩০ ও ৫৪ রানের চারটি দারুণ জুটি।
সবচেয়ে দুর্দান্ত দুটি জুটি হয়েছে নবম ও দশম উইকেটে। দলের শেষ দ্ইু ব্যাটসম্যানকে নিয়ে যোগ করলেন ৮৪। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার, এই দুই জুটিতে স্টার্ক ও হ্যাজলউড খেলেছেন মাত্র ৩ বল! কীভাবে টেল এন্ডারদের আড়াল করে খেলতে হয়, এর একটা ট্রেনিং ম্যানুয়াল হয়ে থাকল যেন এই ম্যাচ! প্রতি ওভারের শেষ বলে রান নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখা। বাজে বলের জন্য অপেক্ষা করা। বাজের বলের পুরো সদ্ব্যবহার করে রান বাড়িয়ে নেওয়া।
স্টয়নিসদের কাছে আমাদের সাব্বিরদের শেখার কিন্তু আছে অনেক কিছুই।
চট্টগ্রাম টেস্টে দিকে এবার দৃষ্টি ফেরানো যাক। ২৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সাব্বিরের ৮৭ রানের জুটি প্রায় জয়ের পথেই নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু ৩৯ রানে মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশের টেল এন্ডারদের ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেননি সাব্বির। নিজে ১০২ বল খেলে উইকেটে সেট হয়ে থাকলেও নিচের ব্যাটসম্যানদের আড়াল করে এগিয়ে যেতে পারেননি। ৭ম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৩, কামরুল ইসলাম রাব্বীকে নিয়ে ৪ রানের বেশি তুলতে পারেননি। দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ার পর প্রায় ফিকে হয়ে আসা জয়ের সম্ভাবনাটা জাগিয়েছিলেন তাইজুল ইসলামই। নবম উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গে তাঁর জুটিটি ছিল ২৫ রানের। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই জুটিতে ১৬ রানই আসে তাইজুলের ব্যাট থেকে। সাব্বির করেন ৯। শুধু রান করা নয়, বলও বেশি খেলেছেন তাইজুল। ৫১ বলের জুটির ৩৩ বলই খেলেছেন তাইজুল!
এই জুটিও ভাঙল কীভাবে? ৮১তম ওভারের শেষ ওভার। স্ট্রাইকিং প্রান্তে তাইজুল। সবাইকে চমকে দিয়ে ওই বলে ১ রান নিয়ে নিলেন দুজনে! আবারও পরের ওভারে তাইজুল ফিরলেন স্ট্রাইকে! আর নতুন ওভারের প্রথম বলেই আউট তাইজুল! দুই বল পরে আউট শফিউল। ম্যাচটা বাংলাদেশ হারল ২২ রানে। অথচ সেই টেস্ট জিততে পারলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজও জিততে পারত দল! টেল এন্ডারদের আড়াল করতে না-পারার এই দুর্বলতাটা সাব্বির দেখিয়েছেন গত নিউজিল্যান্ড সফরেও।
স্টয়নিসের আজকের ইনিংসটা দলকে জেতাতে পারেনি ঠিকই। কিন্তু টেল এন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে কীভাবে পাল্টা লড়াই করতে হয়, সে ব্যাপারে ধ্রুপদি উদাহরণ হতে পারে এটি। সাব্বিরের জন্য এই ইনিংসটি তো অবশ্য দ্রষ্টব্যই। কারণ ভবিষ্যতেও তাঁকে অনেকবার এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে হবে।