রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি গঠন করবেন : ফখরুল

Fokrul-islamবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আশা রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি নিরপেক্ষ, যোগ্য এবং সঠিক নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতের সব জঞ্জাল মুছে দিয়ে সামনের দিকে, একটা সুন্দর স্বপ্নের দিকে এগোতে চায়। গতকাল শনিবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জিয়া পরিষদ নামে একটি সংগঠনের প্রতিনিধি সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি এখনো সার্চ কমিটি ঘোষণা করেননি। আমরা বরাবরই বলেছি আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করি। আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করেছেন রাষ্ট্রপতি তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি নিঃসন্দেহে জনগণের আশা আকাক্সক্ষা পূরণ করবার জন্য বাংলাদেশের মানুষের চোখের ভাষা বুঝে সার্চ কমিটি করবেন। তাঁর গঠিত কমিটি অবশ্যই নিরপেক্ষ হবে, যোগ্য হবে এবং সঠিক নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সক্ষম হবে। আমরা অতীতের সব জঞ্জাল মুছে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। একটা সুন্দর স্বপ্নের দিকে এগোতে চাই। বিএনপির মহাসচিব বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপিকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি জিয়ার মাজার সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বহু প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় জিয়ার নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি সরকারকে ফ্যাসিবাদী, একনায়কতন্ত্রিক ও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পরিচালনাকারী বলে উল্লেখ করেন। সরকার রাষ্ট্রের কাঠামো ধ্বংস করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করছে, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে বড় লোকেরা আরও বড়লোক হচ্ছে, গরিবরা আরও গরিব হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে জিয়া সম্পর্কে আরও বেশি করে জানার আহ্বান জানান। জিয়াকে সফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ সেখানে জিয়া সফল। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরিবর্তে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন (ডিভিএম) ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন ফখরুল। এর আগে গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজি রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, আগের ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) দুর্বলতা ছিল। এখন আরো উন্নত মানের মেশিন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই যন্ত্রের নাম ডিজিটাল ভোটিং মেশিন (ডিভিএম)। এটা কেউ হ্যাক করতে পারবে না। সিইসির এই বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডিজিটাল ভোটিংয়ে আমেরিকার মতো একটি দেশের ভোট হাইজ্যাক করে নিয়ে যায় রাশিয়া। এখন ওঁরা (সিইসি) ডিজিটাল ভোট করবেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে চিরদিন ক্ষমতায় রাখার জন্য যা যা করা দরকার ওঁরা তা করবেন। ‘পাঁচ বছর নির্বাচন কমিশন খুব সফল হয়েছে’ বিদায়ী সিইসির এ বক্তব্য জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সফলতার বিবরণ আপনারা (দেশবাসী) খুব ভালো করে জানেন। ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনে ১৫৩জন বিনাভোটে নির্বাচিত-এখানে নির্বাচন কমিশন সফল! ৫ ভাগ ভোটকে ৪০ ভাগ করেছেন-সফল, উপজেলা নির্বাচনের ৫ ধাপের মধ্যে শেষ তিনটি ধাপ দখল- সফল! পৌরসভা নির্বাচন দখল- সফল! ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দখল-সফল; অবশ্যই সফল! সর্বশেষ নাসিক নির্বাচনে অত্যন্ত সুক্ষ, নতুন কৌশলে সফল! জিয়া পরিষদের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কেউ করে দিয়ে যাবে না। দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য বাইরে থেকে কাউকে হায়ার করে আনবে না কেউ। আমাদেরই দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে দিলেন, এটি অন্ত:সারশূন্য। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়-‘ভোগাস’! কিন্তু রাষ্ট্রপতি এটাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিলেন। তিনি মনে করলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন খালেদা জিয়া। সব রাজনীতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেন। বিএনপিকে ডাকলেন সবার আগে। তিনি বললেন, আপনারা যেটা দিয়েছেন, এটা অত্যন্ত সময় উপযোগী হয়েছে। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজি মুরাদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ। এর আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন চত্বরে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিনের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিনিধি সম্মেলনে ৫৪টি সাংগঠনিক জেলা ও ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদ’র নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।