বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশে এলপি গ্যাসের দাম বেশি

150

indexএদেশে এলপি গ্যাসের বিশ্ববাজারের চেয়ে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী এলপি গ্যাসের দাম হতে পাওে সর্বোচ্চ ৭শ’ টাকা। কিন্তু বর্তমানে দেশে বাজারে সর্বনি¤œ ৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর গ্রাহকের পকেট থেকে বাড়তি খরচ হচ্ছে ন্যূনতম প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা। অথচ প্রতিবছরই দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদা ও গ্রাহক বাড়ছে। আর গত তিন বছরে দেশের বাজারে সরবরাহ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। ২০১৩ সালে দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহ ছিল প্রতি মাসে গড়ে ৮ হাজার টন। চলতি বছর তা প্রায় ৩৬ হাজার টনে উঠেছে। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এলপি গ্যাসের মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে দুই বছর ধরে কমছে। এক হাজার ডলার থেকে কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪০০ ডলার। কিন্তু সেই তুলনায় দেশে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমেনি। ২০১৪ সালে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের (১২ কেজি) দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী এখন তা হওয়া উচিত সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা। কিন্তু এখনো সর্বনিম্ন ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাকাভেদে ওই দাম ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রতি মাসে অন্তত ২০ লাখ। সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে গ্রাহক ২০০ টাকা করে বেশি দিলে প্রতি মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে বেশি বেরিয়ে যাচ্ছে ৪০ কোটি টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে এলপি গ্যাসের দাম কমার বিষয়টি এদেশের গ্রাহকরা তেমন জানে না। তবে গত দুই বছরে সিলিন্ডারপ্রতি এলপি গ্যাসের দাম কিছুটা কমায় এবং  সহজলভ্য হওয়াতেই গ্রাহকরা খুশি খুশি। বর্তমানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১১টি কোম্পানি এলপি গ্যাস বাজারজাত করছে। শিগগিরই ওই খাতে আরো অন্তত চার-পাঁচটি নতুন কোম্পানি কাজ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর ধারণা, এক বছর পর দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহ ও চাহিদা প্রতি মাসে ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন আমদানি হয় সৌদি অ্যারামকো নামের একটি কোম্পানি থেকে। ওই কোম্পানি প্রতি মাসের ১ তারিখে ওই মাসের জন্য সেই দুটি উপাদানের দাম প্রকাশ করে। সে মাসের জন্য ওই দামই নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো প্রতি মাসে সাধারণত দুবার ওসব উপাদান আমদানি করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সৌদি অ্যারামকোর প্রতি টন প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ১০ ও ১ হাজার ২০ মার্কিন ডলার। তারপরের মাস থেকেই ওই দাম ক্রমাগত কমতে থাকে। ওই বছরের নভেম্বরে এই দাম কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬১০ ও ৬২০ ডলার। তখন দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হতো ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। তার এক বছর পর, ২০১৫ সালের নভেম্বরে সৌদি অ্যারামকোর প্রতি টন পেপ্রাপেন ও বিউটেনের দাম কমে হয় যথাক্রমে ৩৯৫ ও ৪৩৫ ডলার। চলতি বছরের ডিসেম্বরে তা হয়েছে ৩৮০ ও ৪২০ ডলার। কিন্তু এখনো দেশের বাজারে ৯০০ টাকার কমে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাচ্ছে না গ্রাহকেরা। তবে এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর দাবি প্রোপেন ও বিউটেনের দাম প্রতি মাসে নির্ধারিত হওয়ায় দেশের বাজারে স্থায়ী খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে যে দেশের বাজারে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অনেকেই একমত পোষণ করেন। গত জুলাই মাসে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আয়োজিত গ্যাসের দাম নির্ধারণ-সংক্রান্ত গণশুনানিতে অংশ নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদও বলেছেন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে গ্রাহককে এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডার দেয়া সম্ভব। কিন্তু সে বিষয়ে গ্রাহকদের না জানার সুযোগে দেশে এলপি গ্যাসের দাম যথেষ্ট পরিমাণে না কমিয়েই ব্যবসা করছে কোম্পানিগুলো।
এদিকে এলপি গ্যাসের বেশি দাম প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, এলপি গ্যাসের খুচরা দাম নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।