গোমস্তাপুরে নতুন জাতের আম

img_20161107_171233আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক নতুন জাতের আমের উদ্ভাবন করেছে এক আমচাষী । নিজ উদ্যোগে আমের নতুন জাত তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামের আম চাষী জাকির হোসেন খান । এ সময় অন্য জাতের আম গাছে মুকুল বা আম না থাকলেও তার গাছে আম ধরছে থোকায় থোকায়। আম পাড়তে না পাড়তেই আবারো আসছে মুকুল। গাছ গুলোর এ বৈশিষ্ঠ্য স্থায়ী হলে দেশে আম উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ আমগাছকে বারমাসি আমগাছ বলে ধারণা করছে স্থানীয় আমচাষীরা। এ আমগাছ ও আম দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। আমগুলোর ওজন মাত্র ১ মাসেই ১ থেকে দেড় কেজি, গুটি ছোট, আঁশ বিহীন এ আম খেতে অনেকটা খিরসাপাত (হিমসাগর) আমের মত।
আমচাষী জাকির হোসেন খাঁন জানান, গত ৩ বছর পূর্বে এক প্রতিবেশির বাগান থেকে আনা গুটিজাতের আমগাছের ডাল সংগ্রহ করেন এবং বাড়ীর চত্বরে আ¤্রপালি গাছে তা সংযোজন করা হয় । কয়েক বছর পরে আকষ্মিক ভাবে মুকুল এসে নিয়মিতভাবে আম ধরা শুরু হয়। যা বছরে ৩ বার খাওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই গাছেই পুনরায় ফজলি আমগাছের ডাল সংযোজন করা হয়। সেই থেকেই ফলছে বড় সাইজের সুস্বাদু এই আম।
ইতিমধ্যে আমের এই জাতটি নজর কেড়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগেরও। এটি গবেষণার মাধ্যমে চাষী পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্টিকালচার সেন্টারের বিজ্ঞানীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ড. সাইফুর রহমান বলেন-খবর পেয়ে আমি গত শনিবার আম গাছ পরিদর্শন করেছি। এবছরই প্রথম আম এসেছে। ইতোমধ্যে ৩বার আম গাছ থেকে পাড়া হয়েছে। বর্তমানে গুটি ও আম ধরে আছে। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু,মিষ্টতা পাওয়া গেছে ২২ থেকে ২৪ ভাগ, খাওয়ার উপযোগী ৮০ ভাগ, আঁশ নেই এবং একটি সুমিষ্ট ঘ্রান রয়েছে। গাছটি যতি এই বৈশিষ্ট গুলো ধরে রাখতে পারে তাহলে আম চাষে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।