পানির নিচে পোস্টঅফিস

86

3পৃথিবীতে মানুষের বৈচিত্রময় ভাবনার কারণে কত চমকপ্রদ ঘটনাই তো ঘটে। উদ্ভট, অদ্ভুত সেসব ঘটনা আবার রেকর্ড বুকেও স্থান পায়। এই যেমন জাপানে পানির নিচে ডাকঘর তৈরি করা হয়েছে। আপনি হয়তো ভাবছেন, এর আবার কী প্রয়োজন পড়ল এই মোবাইল, ইন্টারনেটের যুগে? কারণ আর কিছুই নয়, উদ্ভট আর অদ্ভুত শখ। এই শখের কা-টি আবার গিনেস বুকেও ঠাঁই করে নিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, ডাকঘরটি ৩৫০ ফিট পানির নিচে অবস্থিত। চিঠি পোস্ট করতে যেতে হয় ডুবুরির পোশাক পরে। অবাক করা ব্যাপার হলো, এখানে চিঠিও জমা পড়ে বেশ। একটা দুইটা নয়, বছরে প্রায় দেড় হাজার জাপানের ওয়াকাইমার সুসামি শহর সংলগ্ন সুসামি উপসাগরের নিচে এই ডাকঘর। পানির গভীরে এই ডাক বাক্সের আইডিয়া প্রথম আসে ৭০ বছরের তোশিহিকো মাতসুমোতোর মাথায়। তিনিই ছিলেন তখন সুসামি শহরের পোস্ট মাস্টার। ১৯৯৯ সালে তৈরি হওয়া এই ডাকঘর থেকে ডাক বাক্স ইয়ামাতানি ডাইভ শপের পেশাদার ডুবুরিরা নিয়মিত গিয়ে তুলে আনেন। এখানেই বিক্রি হয় ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট পোস্ট কার্ড ও তেলের মার্কার। ডাক বাক্সে জং ধরলে বছর দুয়েক পরপর বদলেও দেওয়া হয়। ডাকঘরের কল্যাণে রাতারাতি সেলিব্রেটি বনে যাওয়া তোশিহিকো মাতসুমোতো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মূলত রেকর্ড গড়তেই এই অভিনব ডাকঘরটি দিয়েছেন তিনি। এতে প্রথমে সাড়া না পেলেও এখন ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। অনেকেই চিঠি পোস্ট করাটাকে রোমাঞ্চের অংশ মনে করেন। তিনি আরও জানান, বেশিরভাগই নিজের মনোস্কামনা, ভাবনা লিখে শখের বসে এই ডাকঘরে চিঠি পোস্ট করতে যান।