পাকিস্তান নয়, উল্টো বাংলাদেশই টাকা পাবে : তোফায়েল

98

tofailবাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তখনকার পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন উপায়ে নিয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের অর্থ দাবিকে ‘অবাস্তব ও ভিত্তিহীন’ বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। পাকিস্তানের দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকরা গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা পাকিস্তানের কাছে আমাদের পাওনা দাবি করেছি, সে কারণে ওটাকে ব্যাহত করার জন্য তারা উল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, যেটা অবাস্তব, ভিত্তিহীন। ওরা আমাদের কাছ থেকে টাকা পাবে কোত্থেকে? পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ লোককে হত্যা করেছে। আমাদের প্রাপ্য আছে পাকিস্তানে, কারণ তারা আমাদের শোষণ করেছে। এর আগে মন্ত্রী ঢাকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গ্রাহাম মর্টনের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত মঙ্গলবার দ্য স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানকে (এসবিপি) উদ্ধৃত করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি) পাওনা দাবি করতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের যে অর্থ পাওনা ছিল তা বর্তমানে ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সম্পদ মূল্যায়নের (অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন) মাধ্যমে প্রকৃত এই পাওনা নিরূপণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আগের পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে আয় করতাম। বিশেষ করে পাটে, আমদজীর মত পাটকলৃসেই টাকাগুলো সব পাকিস্তান নিয়ে গেছে। বরং পাকিস্তানে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হত তার ম্যাক্সিমামটা হত বাংলাদেশের পণ্য থেকে। সেই হিসেবে আমরা তাদের (পাকিস্তান) কাছে টাকা পাব। অবশ্য পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ কবে, কীভাবে পাওনা দাবি করেছিলে সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবে বর্তমান বাজারমূল্যে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ ৩৩ হাজার কোটি টাকায় পাওনা- এমন তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তানকে পাওনা পরিশোধ করতে বলেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা করে বলেও গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।