আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক: শিল্পমন্ত্রী

56

dদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বেলা ১১টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকটি শেষ হয় দেড়টার দিকে। এরপর ব্রিফিং করেন মন্ত্রী। শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আমির হোসেন আমু বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলায় স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নরসিংদীতে দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আমু। এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। এর আগে তিনি বলেন সরকারি ভূমি দখলে ভূমিদস্যুদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গোবিন্দগঞ্জে সরকারি জমিতে সাঁওতাল বসতি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প মন্ত্রী বলেন, গোবিন্দগঞ্জে ভূমিদস্যুরা সাঁওতালদের ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করেছিলো। এখানে সাঁওতালরা ব্যবহৃত হচ্ছিল। যে স্থানে ওই ঘটনা ঘটে সেখানে এর আগে কোনো সাঁওতাল পল্লী ছিলো না। উল্লেখিত জমি ১৯৫৪ সাল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে চিনি কলের জন্য আখ চাষে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ভূমি দস্যুরা সে জমি দখলের জন্য সাঁওতালদের ব্যবহার করে। যারা সাঁওতালদের জন্য মায়াকান্না কাঁদছে, মানখানেক আগে তারা আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের বলেছি সাঁওতালদের বুঝিয়ে শুনিয়ে জমি ছেড়ে দিতে। এভাবে সরকারি জমি কেউ দখল নিতে পারে না। আমরা নিজেরাও তিন মাস ধরে তাদেরকে বুঝিয়ে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা প্রত্যেকবারই আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। চিনি কলের শ্রমিক এবং পুলিশ বারবার তাদের কাছে আহত হয়েছে। আমরা এই জমি দখল না নিলে ওই ভূমিদস্যুরা নিজেরাই পরবর্তীতে সাঁওতালদের তাড়িয়ে ওই জমির দখল নিতো। শিল্প মন্ত্রী বলেন, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ এবং রায়পুরের ঘটনা একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। এরই মধ্যে সরকার এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য প্র্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা নিয়েছে। নাসির নগরের ঘটনার সঙ্গে অন্য কোন মহলের যোগসাজস থাকার সম্ভাবনা আছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কেননা, একটি মহল যেহেতু জঙ্গিবাদের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই তারা সংখ্যালঘু আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিদেশের কাছে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আমরা মনে করি। আমু বলেন, দেশে যে জঙ্গিবাদ চর্চার চেষ্টা হয়েছিল, তা বিনষ্ট করা হয়েছে। সকল ইন্টার লিংক ধ্বংস করা হয়েছে। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। ঘটতে দেওয়া হবে না। সকল সন্দেহভাজন পুলিশের নজরবন্দি আছে। শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ পুলিশের আইজিপি শহিদুল হক, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।