আসামির পলায়ন

53

gourbangla logoধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামি আদালত ভবনে ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরার সামনে থেকে পালিয়েছে। গ্রামাঞ্চল নয়, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য পুলিশের হেফাজত থেকে আসামিকে আদালতে আনার দায়িত্বে তথা ওই সময়ে পাহারায় ছিলেন একজন এসআই এবং একজন কনস্টেবল। আসামির হাতকড়া লাগানো ছিল। ঘটনার সময় দুপুরে আদালত ভবন সাধারণত জনাকীর্ণ থাকে। এসআই আসামিকে বারান্দায় বসিয়ে রেখে ম্যাজিস্ট্রেটের কামরায় ঢোকেন আর একই সময় কনস্টেবল প্র¯্রাব করতে যান। এ অবস্থায় আসামির হাওয়া হয়ে যাওয়া ছিঁচকে চোর পালানোর মতো হালকা ঘটনা হিসেবে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট বাড্ডা থানার এসআই ইমরানুল হাসান ও কনস্টেবল দীপককে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা তো হবেই। আমরা বলতে চাই, কোনোরকম অনুকম্পার মনোভাব না রেখে যথাযথ তদন্ত করে কঠিন সাজা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ পুলিশের ভেতরে কোনো গুরুতর দুর্বলতা থাকা বিচিত্র নয়। মাত্র গত আগস্টে কেরানীগঞ্জে শিশু পরাগ অপহরণ মামলার আসামি আদালত থেকে পালায়। এ রকম ঘটনা দেশে কম নয়। গত রোববার পালাল বাড্ডায় এক গারো তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে ধৃত রাফসান হোসেন ওরফে রুবেল নামে এক পেশাদার অপরাধী, যার নামে র‌্যাবের ভাষ্যমতে আগে আরও ধর্ষণ, অবৈধ অস্ত্র, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে জিম্মি করা প্রভৃতি অপরাধের আটটি মামলা আছে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। ২৫ অক্টোবর এক শ্রমজীবী গারো তরুণীকে রুবেল ও তার সহযোগী এক বাসা থেকে জোর করে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। সহযোগী সালাউদ্দিন ২৯ অক্টোবর গ্রেফতার হয়। গত শুক্রবার ১৩ নভেম্বর র‌্যাব রুবেলকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বাড্ডা থানায় দেয়। থানা পুলিশের মতে, সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পালাল। দেশে যত ধর্ষণের ঘটনা ও মামলা হয় তার তুলনায় খুব কম ক্ষেত্রে অপরাধীর সাজা হয়। ধর্ষণের মামলা তদন্ত করে প্রমাণ করার জটিলতা বিষয়ে আইনজীবী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা আছে। রুবেলের পালানো সংশ্লিষ্ট পুলিশের দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা নির্দেশ তো করেই, পুলিশের মধ্যে কোনো দুর্নীতি থাকলে তা তদন্ত করে কঠোর শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।