আরো একটি সাফল্য দুদকের এমপি বদির কারাদন্ড

55

gourbangla logoদুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপি আবদুর রহমান বদিকে আদালত তিন বছরের কারাদ- ও ১০ লাখ টাকা অর্থদ- দিয়েছেন। এটি বাংলাদেশে প্রচলিত ‘প্রশ্রয় সংস্কৃতি’তে একটি বড় ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা যেতে পারে। দল ক্ষমতায় থাকতে সেই দলের কোনো এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের ও সেই মামলায় আদালতে সাজা পাওয়ার ঘটনা এ দেশে বিরল। সেদিক থেকে আদালতের এই রায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। অতীতে বিভিন্ন শাসনামলেই দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বহু অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, অভিযোগের সঠিক তদন্ত করা ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ ছিল না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা তারও আগে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ভূমিকা নিয়েও ছিল অনেক প্রশ্ন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের অনেক এমপি কিংবা অনেক নেতাকর্মীকে দুর্নীতি-অনিয়মে বেপরোয়া হয়ে উঠতে দেখা গেছে। বর্তমানে দুদক অনেকটাই গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে পেরেছে বলে ধারণা করা যায়। এরই মধ্যে তারা সরকারি দলের আরো অনেক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলা হয়েছে প্রশাসনেরও অনেক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুদকের এমন ভূমিকাই মানুষ দীর্ঘদিন থেকে আশা করে আসছিল। দেরিতে হলেও দুদকের কর্মকা-ে যে গতিশীলতা এসেছে, তাকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই, দুদকের এই উদ্যম উত্তরোত্তর আরো শক্তিশালী ও কার্যকর হোক। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকার সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি তাঁর নানা কর্মকা-ের জন্য অনেক দিন থেকেই গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত একজন ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা, স্কুল শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ অনেককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আছে। ইয়াবাসহ মাদকপাচারের অভিযোগ আছে। অনেক মামলাও আছে। আইনের শাসনের স্বার্থে সেসব অভিযোগেরও ন্যায়সংগত সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনকে যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। অনলাইনে প্রাপ্ত খবর থেকে জানা যায়, এমপি বদির বিরুদ্ধে দুদক ২০১৪ সালে দুটি অভিযোগে মামলা করেছিল। একটি ছিল সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং অন্যটি ছিল জ্ঞাত আয়ের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ। আদালতে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অন্য অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি কেন প্রমাণ করা যায়নি, কোথাও কোনো দুর্বলতা ছিল কি না সে বিষয়টি দুদককে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কোনো মামলায় দুদকের অনুরূপ দুর্বলতা না থাকুক। আর শুধু বদি নয়, সারা দেশে ক্ষমতাসীন দলের আরো অনেক এমপি কিংবা নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আশা করি, দুদক সেসব ক্ষেত্রেও তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে। শুধু ক্ষমতাসীন দলেরই নয়, দুর্নীতি যে-ই করুক তার বিরুদ্ধেই দুদককে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে প্রশাসনে থেকে যারা দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে।