সড়ক ব্যবস্থাপনা

50

gourbangla logoসড়ক পরিবহন ব্যবস্থা উন্নতির কথা বলা হলেও দিন দিন এর বিপরীত চিত্রই ফুটে উঠছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যা বলছে তা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। এতে ওই কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। রাজধানীসহ সারাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শুধু জনদুর্ভোগ, প্রাণহানি, সম্পদ বিনষ্টই হচ্ছে না, পাশাপাশি অর্থনীতিতে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। এ অবস্থা যে নতুন বা হুট করেই উদ্ভব হয়েছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। একটি রাষ্ট্র সমাজ ব্যবস্থায় নানা সঙ্কট-সমস্যা থাকতেই পারে এটা অস্বাভাবিক নয়। যদি প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করার মাধ্যমে সমাধানের পন্থা বের করে সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় তবে সেই সঙ্কট থেকে উত্তরণ বা সমস্যা সমাধান কোন কঠিন বিষয় নয়। তবে এসবের আগে দরকার অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা। সড়ক ব্যবস্থাপনার এ বাস্তবতা একদিনেই এমন পর্যায়ে নেমে আসেনি। এই অবস্থা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা কিংবা উদাসীনতা প্রকাশ করে না? একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, সড়ক ব্যবস্থাপনার পাহাড় সমান দুর্বলতার বহর। স্বল্পগতির যানবাহনে ভরে গেছে রাজধানীসহ সারাদেশের জাতীয় সড়ক। এতে দ্রুত গতিসম্পন্ন বাহনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রীর সময় বিনষ্টসহ দুর্ঘটনা বাড়ছে অথচ প্রয়োজন এসব বাহনের জন্য আলাদা লেনের সড়ক। দ্রুত গতিসম্পন্ন বাহন চলছে বেপরোয়াভাবে। গতি নিয়ন্ত্রণের স্পিড ডিক্টেটর থাকলেও নেই প্রয়োগ। ভারি যানবাহন চালনার সনদ পাওয়া যায় অতি সহজে। চালকের যোগ্যতার বিষয়টি সেখানে তুচ্ছ। পরিবহন সঙ্কট তো রয়েছেই। গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। মালিক-শ্রমিকের হাতে সাধারণ যাত্রী জিম্মি হয়ে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দূরপল্লার যানবাহন বিশেষত বাস ও ট্রাকের চালকের বিশ্রাম, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সড়ক আইন জ্ঞানের অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা। শুধু চালকদের দুর্বলতা দোষ দেয়া হবে একপেশে। সড়কের বাস্তবতাও কম দায়ী নয়। দেশে সড়কপথে ১৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁককে সোজা করতে ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও তা এখনও ‘যথা পূর্বং’। সড়কে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বেড়ে চলেছে। জায়গা করে নিয়েছে পৃথিবীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে এমন নেতিবাচক স্থান। মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। হন্তারক আর সড়ক হয়ে উঠছে সমার্থক। এমন চলতে থাকলে এ সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ১৬ শতাংশ। বিষয়টি ভাবনার উদ্রেক করে বৈকি হাইওয়ে পুলিশ নামে নিরাপত্তা সংস্থা থাকলেও সড়ক নিরাপদ নয়।সড়ক ও পরিবহনের ক্ষেত্রে রয়েছে আলাদা মন্ত্রণালয়। দুটি একে অপরের পরিপƒরক বললে অত্যুক্তি হবে না। সংশ্লিষ্ট কোন জনগুরুত্বপূর্ণ ও গণস্বার্থের ইস্যুতে এদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর নজির কম। বাগাড়ম্বর বা লোক দেখানো কোন কর্মসূচী নয়, সহাবস্থানে থেকে, রশি টানটানি না করে প্রায় ভেঙ্গে পড়া সড়ক ব্যবস্থাপনাকে জনবান্ধব হিসেবে সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠিত করবে বলে সবার প্রত্যাশা।