কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারশালায়

MYXJ_20160904175017_fast (Custom)কদিন পরেই কুরবানী  ঈদ তাই যেন দম ফেলার ফুরসত নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কর্মকারদের, কামারশালায় খুব ভোর থেকে গভির রাত পর্যন্ত চলছে কর্মযজ্ঞ। কুরবানীর পশু জবাই এর জন্য কেউ কেউ কিনছেন নতুন ছুরি, ছোরা, দা, কোপদা। আবার অনেকেই নিয়ে আসছেন বাড়িতে থাকা পুরোনো মাংস কাটার যন্ত্রটিকে নতুন করে ধার দিয়ে ঈদের দিন ব্যবহার উপযোগী করার জন্য। আর এই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে কোন কোন কামার শালায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে বাড়তি কর্মী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেল স্টেশন, অক্ট্রয় মোড়, বিশ্বরোড মোড়, আরামবাগ, মাঝপাড়া, বটতলাহাটসহ শহরের বেশ কিছু কামারশালা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।  শহরের অক্ট্রয় মোড় এলাকায় শ্রি মতি কর্মকারের কামার শালা, হাপরে বাতাসে জ্বলছে আগুন, পুড়ে লাল হচ্ছে লোহা, তপ্ত সেই লাল লোহার দন্ডকেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে বটি, দা, কোপদা, ছুরিকে বিভিন্ন সাইজে পরিণত করে চলেছেন অবিরত তিনি। কথা হলো শ্রি মতি কর্মকারের সাথে, কুরবানীর ঈদের তো আর বেশি দিন নেই, কাজ কেমন হচ্ছে। জানালেন বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না তাই বিকাল হলেই বাড়ি চলে যেতাম। কিন্তু এখন সপ্তাহ খানেক থেকে কাজের অনেক চাপ তাই রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। কথায় কথায় তিনি জানালেন, ১০ বছর বয়স থেকে কর্মকারের কাজ শিখেছেন, এরপর নিজেই কামার শালা খুলে কাজ করছেন প্রায় ২৫ বছর যাবত। অক্ট্রয় মোড় এলাকাতেই প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে তার। কেমন আয় হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় না হলে সংসার চালাব কিভাবে এই বাজারে, প্রতি মাসে ওই রকমই আয় হয়। আর ঈদের সময় ৩০-৪০ হাজার টাকার কাজ করি, তবে এই সময় আরো তিনজন লেবার (সহযোগী) কাজ করে আমার সাথে তাদেরকে ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা বেতন টাকা দিতে হয়। মতির কামারশালায় কথা হয়, স্বরুপনগর এলাকা রুহুল আমিন নামে একজনের সাথে, তিনি দা, কোপদা, ছুরি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানালেন কুরবানীর পশু জবাই ও মাংস করার জন্য ছুরি, কোপদা গুলো পাঝিয়ে (ধার) নিলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালা গুলোর এই কর্মব্যস্ততা থাকবে ঈদের রাত পর্যন্ত।