প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি ভোলাহাটের প্রতিবন্ধী মোবারককে

112

PHOTO (Custom)

দারিদ্রতা কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধীতা কোন কিছুই দমাতে পারেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাসান আলীর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে মোবারককে। সে দিনমজুর বাবার কোলে বসে সমাপনি, জেএসসি, এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছে পল্লী মঙ্গল পলিটেকনিক্যালে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। মোবারক বুঝাতে চায় প্রতিবন্ধীরা জাতির কাছে বোঝা নয়। কঠিন পরিশ্রম করে পড়া-লেখা শেষে কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় সে। শারীরিক প্রতিবন্ধী মোবারক দিনমজুর বাবার কোলে বসে পাঁচ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁচ বছর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এসএসসি পাস করে। বাবা তাকে স্কুলে রেখে পেটের তাগিদে ছুটে গেছে কামলা দিতে। আবার সময় মত তিনি স্কুল থেকে বাড়ী নিয়ে গেছেন ছেলেকে। বাবারও স্বপ্ন ছেলেকে তিনি কারো বোঝা করে রাখতে চান না। মোবারকের বাবা জানান, তার এই ছেলেকে তিনি কখনও কষ্ট দেননি এবং কষ্ট দিতেও চান না। তার ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে জাতির কাজে লাগবে, এটাই তার স্বপ্ন। বাবা মায়ের ২ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে মোবারক ২য়। মোবারক কেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধি হওয়ায় শিক্ষা অর্জন করে শিক্ষক হলে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের বোডে লিখে শিক্ষা দেয়া সম্ভব হবে না। তাছাড়া যে কোন অফিসে চাকুরি হলে কম্পিউটারে বসে কাজ করা সম্ভব হবে বলেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, সেমিস্টার ফি ৫০ হাজার টাকা কলেজ কতৃপক্ষ মওকুফ করলে, বই-খাতা, দু’সিটের মটরযুক্ত হুইলচেয়ার সহায়তা পেলে দরিদ্র পিতার জন্য অনেক সহায়তা হবে। তিনি যে কোন স্ব-হৃদয় ব্যক্তির সহায়তা কামনা করেছেন। এদিকে তার বাবা হাসান আলী জানান, তিনি তার ছেলে মোবারকের পড়া-লেখা থেকে যাতে ঝরে আর্থীক কারণে ঝরে পড়ে না যায় সে জন্য এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও ডাইসিন কেম লিঃ ঢাকার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও পল্লী মঙ্গল পলিটেকনিক্যালের কর্নধার মিজানুর রহমান বরাবর সহায়তার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। তার দাবি স্ব-হৃদয় ব্যক্তিগণ তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার।