ভোলাহাটে প্রতিদিন মণের মণ আম ঝরে পড়ছে

Bholahat Photo News-30.04.2016.doc (Small)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে প্রচন্ড তাপদাহে আর গরম হাওয়ায় প্রতিদিন কয়েক হাজার কেজি আম ঝরে পড়ছে। এতে আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যথাযথ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে না পারারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রচন্ড তাপদাহে আর গরম হাওয়ায় আমের বোঁটা শুকিয়ে প্রচুর আম ঝরে পড়ছে। আম বাগানে গিয়ে মালিক ও ব্যসায়ীরা ঝরে পড়া আমের দৃশ্য দেখে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা জানান, গত বছর আমের ব্যবসা মন্দা হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী পথে বসেছে। এবার বৃষ্টিপাত না হওযায় এবং প্রচন্ড তাপদাহে যে হারে আম ঝরে পড়ছে তাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা চরম ভাবে ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং আর্থীক ভাবে ক্ষতিগস্ত হবেন বলেও তারা মনে করছেন। এ ভাবে চলতে থাকলে আমের ব্যবসা থেকে অনেকেই সরে বাধ্য হবেন বলেও তারা জানিয়েছেন। তারা জানান, আম বাগানে কীটনাশক, সারসহ বিভিন্ন প্রকার উপকরণ ব্যবহার করেও লাভের চেয়ে লোকশান গুনতে হলে হতাশ হওয়া ছাড়া তো আর কিছু থাকে না। সব মিলিয়ে আম ব্যবসায়ী ও আম বাগান মালিকরা রয়েছেন চরম হতাশায়। গুটি আম ব্যবসায়ী জহির হোসেন জানান, প্রচন্ড তাপদাহে উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৬ হাজার কেজি আম ক্রয় করে আচারসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করছেন। এদিকে মেডিকেল মোড়ে ভ্রাম্যমাণ ভাবে আম ক্রয়কারি মানিক জানান, ভালো আমগুলো ২/৩টাকা কেজি দরে ক্রয় করে অপর এক ব্যবসায়ীর হাতে বিক্রয় করছেন। তিনি দিনে একাই ৪০ থেকে ৫০ মণ আম ক্রয় করে থাকেন বলে জানান।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ভোলাহাট উপজেলায় মোট ২২’শ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। তবে আম প্রকৃতিগত কারণে ঝরে পড়ে। এ বছর প্রচন্ড তাপদাহে যে আম ঝরে যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে শেষ রাত থেকে সকাল ৯ টা বা ১০টার মধ্যে আম গাছে সেচ ও ঠান্ডা সময়ে পানি ¯েপ্র করতে পারেন আম চাষে সংশ্লিষ্টরা।