নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সাপাহারে খাবার পানির তীব্র সংকট

81

Photo Sapahar, 12,4,16 (water)

চৈত্রের দাবাদাহ ও প্রচন্ড খরায় নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরের নিকটবর্তী মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামে খাবার পানির তিব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অত্যাধিক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় ওই গ্রামের কূপগুলির পানি শুকিয়ে গেছে। গ্রামবাসী প্রয়োজনীয় পানির অভাবে বিপাকে পড়ে প্রতিদিন পানির সন্ধানে দিক বিদিক ছুটাছুটি করে পানি সংগ্রহ করে জীবন যাপন করছে। পানির অভাবে অত্যন্ত নোংরা পানিতে তারা নিত্য দিনের ধোয়া মোছার কাজ সারছে। গত সোমবার সরেজমিনে ওই গ্রামে পানি সংকটের এই চিত্র দেখা গেছে।
গ্রামে অবস্থিত এক মাত্র কূপটি শুকিয়ে যাওয়ায় সারা রাত ধরে জমানো পনি টুকু সংগ্রহ করতে গ্রামবাসীরা রাত ৩টার দিক হতে ওই কূপে ভিড় জমিয়ে জীবন বাঁচানোর মতো একটুকু করে পানি সংগ্রহ করতেই কূপটি আবারো শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা কোন রকমে সকালের নাওয়া খাওয়া সেরে প্রয়োজনীয় পানির জন্য প্রতিদিন বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে গ্রামের মেয়ে ও বধুদের পাশের গ্রামগুলিতে সারিবদ্ধ ভাবে কলসি কাঁখে পানি সংগ্রহ করতে যেতে দেখা গেছে। গৃহ বধুদের সাথে কথা হলে তারা জানান যে পানির জন্য এক সাথে বেশ কয়েকজন কোন গ্রামের একটি কূপে গেলে ওই গ্রামের মানুষ তাদেরকে পানি দিতে বাধা দিচ্ছে নিরুপায় হয়ে তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন কূপ থেকে কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করে ঘরে ফিরছে। হঠাৎকরে চৈত্রের তাপদাহে তিব্র পানি সংকটকে এলাকার অভিজ্ঞ মহল বরেন্দ্র এলাকায় অপরিকল্পিত ভাবে গভীর নলকূপ স্থাপনকেই দায়ী করছেন। দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল নামে খ্যাত নওগাঁর সাপাহার, পোরশা, পতœীতলা ও নিয়ামতপুর এলাকা। এসব এলাকায় এমনিতেই পানির সংকট এর পরেও আশির দশকের পরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যাবহারের মাধ্যমে এসব ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র এলাকার নিচু অঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে যত্র তত্র সেচ কাজের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করায় প্রতিবছর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর/লেয়ার অস্বাভাভিক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে আর সে কারণে বর্তমানে এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে হঠাৎ করে খাবার পানির তিব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বেশ কিছু বে-সরকারি সংগঠনগুলোর জরিপ মতে প্রতি বছর সাপাহার, পোরশা, পতœীতলা ও নিয়ামতপুর এলাকায় গড়ে দুই থেকে তিন ফিট পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সাপাহার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে সাপাহার জোনের অধিনে সেচ কাজে ব্যাবহৃত উপজেলার নিচু ও সমতল এলাকায় বিদ্যুতায়িত ৩২৩টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব গভীর নলকূপ হতে প্রতিদিন অসংখ্য পরিমান ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে দ্রুত গতিতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বরেন্দ্র এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর যে হারে নিচে নেমে যাচ্ছে তাতে এসব এলাকায় সুপেয় খাবার পানির মারাতœক সংকট আর বেশী দুরে নয় বলে বিভিন্ন গবেষক মহল মনে করছেন। বর্তমানে উপজেলার মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামসহ উপজেলার যে সমস্ত গ্রামে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে ওই সব গ্রামের সাধরণ মানুষ অচিরেই পানি সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।