ফিরে আসছে পাটের সুদিন

48

gourbangla logoএকসময় পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো প্রাচ্যের ডান্ডি। তদানীন্তন পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাট রপ্তানি। স্বাধীন বাংলাদেশেও পাট ছিল প্রধান অর্থকরী ফসল। ৮৭টি পাটকল ছিল দেশে। সেগুলোতে কাজ করত হাজার হাজার শ্রমিক। তারপর একদিকে পাটের বিকল্প হিসেবে সিনথেটিক পণ্যের ছড়াছড়ি, অন্যদিকে দেশপ্রেমহীন শাসককুলের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তÑদুয়ে মিলে বাংলাদেশের পাট তার গৌরব হারিয়েছে। পাটশিল্প চলে গেছে ধ্বংসের মুখে। আশির দশক থেকে অলাভজনক দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হতে থাকে পাটকল। এভাবে ৮৭টির মধ্যে ৬০টি পাটকলই বেসরকারি মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পরও বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাটকল আদমজীসহ আরো কয়েকটি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। চাকরি হারিয়ে এবং প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার নিয়ে পথে বসে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আবার পাট ও পাটশিল্পের হূতগৌরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। আর তার ফলও ফলতে থাকে। বাংলাদেশেই প্রথম পাটের জেনোম আবিষ্কৃত হয়। বেশ কিছু বন্ধ পাটকল আবার চালু করা হয়। পাটের উৎপাদন নতুন করে বৃদ্ধি পায়। পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ প্রণয়নের মাধ্যমে বেশ কিছু পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। পাটের বস্তার বার্ষিক চাহিদা ১০ কোটি থেকে বেড়ে ৭০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ১১৮টি দেশে এখন বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হচ্ছে এবং দিন দিন পাটের বিশ্ববাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বাংলাদেশ যাতে আর্থিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সে জন্য নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে অতীতের কয়েকটি সরকার বাংলাদেশের পাট ও পাটশিল্পকে ধ্বংসের নানা আয়োজন করেছে। অথচ একই বিশ্বব্যাংক একই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাটশিল্পের প্রসারে কাজ করেছে। সেখানে পাটকলের সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সব ফসল সব দেশের মাটি, বায়ু তথা পরিবেশ উপযোগী হয় না। চাইলেই আমরা লাভজনকভাবে আঙুর বা আপেল উৎপাদন করতে পারব না। পাট বিশেষভাবে বাংলাদেশের উপযোগী ফসল। এর উন্নয়ন ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে আমাদেরই অবদান রাখতে হবে। সারা পৃথিবী আজ সিনথেটিক পণ্য ব্যবহারের কুফল বুঝতে পারছে। তাই পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের দিকে আবার সবার দৃষ্টি ফিরছে। বিশ্বের এই পরিবর্তিত মূল্যায়নের সুযোগ আমাদের নিতে হবে। বর্তমান সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি আমরা চাই, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের প্রতি আরো বেশি দৃষ্টি দেওয়া হোক এবং বিশ্বব্যাপী বাজার সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হোক।