নেক আমল সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

Monajat

ইমান গ্রহণ করা সহজ কিন্তু ইমানের ওপর অটল থাকা কঠিন। তেমনি আমল করা সহজ কিন্তু আমল সংরক্ষণ করা কঠিন। সামান্য অসতর্ক আর অমনোযোগী হলে মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে কষ্টার্জিত সব আমল। তাই শক্ত হাতে সংরক্ষণ করতে হবে নেক আমল। উদাহরণ টেনে বিষয়টা স্পষ্ট করছি। কেউ এক বছর কষ্ট করে এক লাখ টাকা আয় করেছে। এবার টাকা নিয়ে বাড়ি যাবে সে। এক লাখ টাকা আয় করতে যত কষ্ট আর শ্রম দিতে হয়েছে তাকে, তার চেয়েও বেশি শ্রম দিয়ে সতর্ক থাকতে হবে টাকা বাড়ি পৌঁছাতে। গাড়িতে ওঠার সময় থাকতে হবে তাকে কড়া সতর্কবান। সবাই ঘুমাবে গাড়িতে বসে, কিন্তু তার চোখে ঘুম আসতে পারবে না। সামান্য সময়ের জন্য অসতর্কও হতে পারবে না। অন্যথায় নিমিষেই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে তার এক বছরের কষ্টের কামাই। আমলের উদাহরণও ঠিক তেমনই। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, দান-সদকাসহ প্রতিটা আমলে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হয়। কনকনে শীতে শেষ রাতে উঠে ঠা-া পানি দিয়ে অজু করে তাহাজ্জত ও ফজরের নামাজ পড়া সহজ কথা নয়। কঠিন অসুখে ডাক্তার বলেছে রোজা ভাঙা যাবে। তবু সাওয়ারের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত কষ্ট স্বীকার করে রোজা রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। পরিশ্রমে কামাই টাকা আর মূল্যবান সময় ব্যয় করে নেহায়েত কষ্ট স্বীকার করে হজ করা সাধারণ কথা নয়। প্রিয় বস্তু সম্পদ ব্যয় করে জাকাত আদায় করা ও সদকা প্রদান করা সহজ ব্যাপার নয়। কষ্টের এসব আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে সামান্য অসতর্কতায়। পকেটভর্তি টাকা থাকলে যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুমানো যায় না, চুরির ভয় থাকে। আর খালি পকেট নিয়ে যেখানে ইচ্ছা ঘুমিয়ে রাত পার করা যায়, চুরি হওয়ার কিছু নেই। ইমান ও আমলের উদাহরণ ঠিক তেমন। যার কাছে ইমান ও আমলের মতো মূল্যবান ধন রয়েছে, তাকে সর্বদা সজাগ, সতর্ক থাকতে হয়। কখন মুখ ফসকে বেরিয়ে যাবে কোন কথা, আর তাতেই বরবাদ হয়ে যাবে তার মূল্যবান ইমান ও আমল, সে টেরও পাবে না। যার কাছে ইমান ও আমলের মতো মূল্যবান ধন নেই, তাকে সাতপাঁচ ভেবে কথা বলার দরকারও নেই, কারণ নষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই তার কাছে। একবার আবু বকর ও ওমর (রা.) কোনো একটা বিষয় নিয়ে নবীর (সা.) দরবারে একটু জোরে কথা বলে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহপাক তাদের হুশিয়ার করে দেন। ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা তোমাদের আওয়াজকে নবীর আওয়াজের ওপর উঁচু কর না, তোমরা পরস্পরে যেভাবে জোরে কথা বল সেভাবে নবীর সামনে কথা বল না, তাতে তোমাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে তোমরা টেরও পাবে না।’ গগনচুম্বী যাদের মর্যাদা, নবীর পর পৃথিবীর সব মানুষের ঊর্ধ্বে যাদের আমল, তাদের আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে নবীর সামনে একটু জোরে কথা বলার অপরাধে। এ থেকে উপলব্ধি করা যায়, সামান্য অসতর্ক হলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে আমাদের বহু কষ্টের আমল। এখন নবীর যুগ নেই। নেই সতর্ক করার কেউ। তাই খুব সাবধানে চলতে হবে আমাদের। অসতর্ক হয়ে কোনো কথা বলে ফেললে হারাতে হবে ইমানের মতো মহাদৌলত। তাই আমল করা যত কঠিন, তার চেয়েও বেশি কঠিন আমল হেফাজত করা। আল্লাহপাক আমাদের আমল হেফাজত করুন। সাহাবাদের নমুনায় পথ চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।