দূর হোক বিনিয়োগের অন্তরায়

127

20110503-money-460

বাংলাদেশকে বর্তমান নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে ২০৪১ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের কোন বিকল্প নেই। অনেকটা এই প্রেক্ষাপটেই রাজধানীতে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও নীতি সম্মেলন। দু’দিনের সম্মেলনে অবশ্যই নানা ভাল ভাল কথা উচ্চারিত হয়েছে সরকার, বিভিন্ন মহল ও উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি বিনিয়োগের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং সে সবের সংস্কার নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। সর্বাধিক যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপ। অন্যদিকে ওই দেশের রিলায়েন্স গ্রুপ তিন বিলিয়ন ডলার এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিদ্যুত, জ¦ালানি, অবকাঠামোসহ বিশেষায়িত অঞ্চল গড়তে মূলত এসব বিনিয়োগ কাজে লাগানো হতে পারে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতি যে অতীতের তুলনায় ভাল, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। সর্বোপরি বিদ্যুত উৎপাদন পরিস্থিতিও সন্তোষজনক। এর পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিও বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট অনুকূলই বলতে হবে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের দাম নেমে যাওয়ায় ওপেকভুক্ত দেশগুলোসহ অনেক উন্নত দেশের অর্থনীতি আছে বিপাকে। চীনে এর মধ্যে শ্রম মজুরি বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা এখন ঝুঁকছেন বাংলাদেশের দিকে। ভারতের তুলনায়ও শ্রমবাজারসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অনুকূল। বিদ্যমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সেক্ষেত্রে সরকারকে বিনিয়োগের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতাগুলোকে দূর করতে হবে পর্যায়ক্রমে। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা, ওয়ানস্টপ সার্ভিস না পাওয়া, উচ্চ করহার, অবকাঠামোগত সমস্যা, জমির সমস্যা, সর্বোপরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ না থাকা ইত্যাদি। তবে আশার কথা এই যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ধীরে সুস্থে হলেও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কয়েকটি সরকারী সংস্থাকে সমন্বয় ও একীভূত করে ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠাসহ ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এর অন্যতম। গ্যাসের সমস্যা আপাতত থাকলেও বিদ্যুত সমস্যা থাকছে না অচিরেই। পদ্মা সেতু নির্মাণসহ চারলেনবিশিষ্ট সংযোগ সড়ক এবং আন্তঃদেশীয় কানেকটিভিটি সম্পন্ন হলে ভূমি সমস্যাসহ অবকাঠামোগত সমস্যা দূর হবে অনেকাংশে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আগামীর অমিত সম্ভাবনা হলো সুবিস্মৃত বঙ্গোপসাগরের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্রসম্পদ অর্থনীতি। বন্দর অবকাঠামোসহ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের যথাযথ অগ্রগতি সাধিত হলে বিপুল জনসংখ্যাধিক্যের দেশে সহজলভ্য শ্রম এক্ষেত্রে প্রভৃত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সরকার সার্বিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে বলেই প্রত্যাশা।