ফুটবল-ক্রিকেটে সম্ভাবনা

51

gourbangla logo

ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে- এমন একটা আশাবাদী বাক্য উচ্চারণ করতে সবারই ভাল লাগে। এর ভেতর অবশ্যই কিছু সত্যতা রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটে আমাদের উন্নতি হয়েছে অনেক। বাইরের দুনিয়া বাংলাদেশকে যে কয়টি ইতিবাচক অর্জনের জন্য চিনছে তার ভেতর প্রথম সারিতে রয়েছে ক্রিকেট। মেধা ও প্রতিভা ঈশ্বর প্রদত্ত হলেও কথা থাকে তার চর্চা, অনুশীলন ও সাধনার বিষয়টি। বাঙালীর ক্রিকেটমেধা এক সময় চাপা পড়েছিল পাকিস্তান নামক অভব্য, বাঙালীবিদ্বেষী রাষ্ট্রের কাছে। স্বাধীনতার সুন্দরতম ফসলের একটি আমাদের ক্রিকেট। আমাদের ছেলেরা বিশ্বক্রিকেটে নিজেদের জাদু দেখানোর সুযোগ পেয়েছে। ক্রিকেটের বিশ্বমোড়ল আইসিসি খানিকটা ধন্দে পড়ে গেছে বাঙালী কি সত্যিই জাদু জানে এত অল্প সময়ের ভেতর তাদের এই বিপুল উন্নতি অথচ বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাসের মর্যাদা দিতেও কত গড়িমসি, কত উপেক্ষা আর পরিহাস আজ বিশ্বের সব ক্রিকেট পরাশক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছে বাংলাদেশ। বাংলার বাঘের কাছে পাকিস্তানের সিংহ বনে গেছে নিতান্ত বনবিড়ালে আর গত বিশ্বকাপেই তো দেখা গেল বাংলার দামাল ছেলেদের শক্তিকে রুখতে কত চেষ্টাই না চলেছে। এখন বাংলাদেশ একটা বিস্ময়ের নাম। যে কোন দেশ ক্রিকেটে বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে গিয়ে কেঁপে ওঠে পরাজয়ের আশঙ্কায়। আইসিসি এখন গবেষণা করে দেখতে চায় কেমন করে এমন উন্নতি করল এই দেশের ক্রিকেট। তারপর বাংলাদেশকে রোলমডেল করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু দেশকে দেয়া হবে সেই গবেষণাপত্র, যা দেখে নিজেদের ক্রিকেটকে আরও সুসংহত করার সুযোগ পাবে তারা। যাহোক, বাংলার মাটিতে টাইগাররা সিরিজ জয়ের কোটা পূর্ণ করেছে। এখন দেশে চলছে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে চার ম্যাচের টি-২০ সিরিজ, যার প্রথমটিতেই চার উইকেটের জয় পেয়েছে টাইগাররা। অথচ টি-২০ ফরমেটে দল তেমন ভাল অবস্থানে না থাকায় জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়া নিয়ে সন্দিহান ছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এই জয় টাইগারদের মনোবল চাঙ্গা করার টনিক হিসেবে কাজ করুক আপাতত এটাই চাওয়া। দেশবাসীর প্রত্যাশা টাইগাররা কোনক্রমেই যেন সিরিজ হাতছাড়া না করে। প্রায় হতোদ্যম, ঝিমিয়ে পড়া দেশীয় ফুটবলে বহু বছর পর প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল গত বছর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজনের মাধ্যমে। এরপর সঞ্চারিত হয়েছে প্রাণচঞ্চলতা ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টে’ ভারতকে হারানোর মধ্য দিয়ে। বর্তমানে দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট। ইতোমধ্যে স্বাগতিকরা অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। যদিও গ্রুপের সর্বশেষ খেলায় প্রতিপক্ষ নেপালকে তারা হারাতে পারেনি। ড্র করেছে। আসলে ফুটবলই বাংলাদেশের মানুষের আসল খেলা। সেসব অতীত দিনের কথা আজকাল যেন বিশ্বাসই হতে চায় না। গ্রামবাংলার এমন কোন পল্লী খুঁজে পাওয়া যেত না যেখানে বছরে অন্তত একবার ফুটবলকেন্দ্রিক কোন বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন হতো না। এবারের বঙ্গবন্ধু কাপ নানা দিক থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা আশা করতে পারি উপেক্ষিত ফুটবল পুনরায় ফিরে পাক তার যথাযথ আসন।