২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী নিহত ১১০ সাংবাদিক

110

gourbangla logo

এ বছর বিশ্বজুড়ে মোট ১১০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউথ বর্ডার্স (আরএসএফ)। নিহত পেশাদার ও অপেশাদার সাংবাদিকদের এ তালিকায় বাংলাদেশের নিহত ৪ ব্লগারও রয়েছেন। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা ‘নাগরিক সাংবাদিকদের’ জন্য ভীষণ বিপজ্জনক। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কথিত ‘শান্তিপূর্ণ’ দেশগুলোতেই নিজেদের কর্মকান্ডের দরুণ ভবিষ্যতে টার্গেটে পরিণত হতে পারেন আরও অনেক সাংবাদিক। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে কর্তব্যরত অবস্থায় এ বছর ৬৭ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ৪৩ জনের নিহত হওয়ার কারণ পরিষ্কার নয়। বার্ষিক একটি প্রতিবেদনে আরএসএফ আরও বলেছে, ২৭ জন অপেশাদার ‘নাগরিক সাংবাদিক‘ ও আরও ৭ গণমাধ্যম কর্মীও এ বছর নিহত হয়েছেন। সংগঠনটির মতে, সাংবাদিকদের প্রতি ‘উদ্দেশ্যমূলক সহিংসতা’র দরুণ নিহতের সংখ্যা এত বেশি। নিহত সাংবাদিকদের এ সংখ্যা গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে। আরএসএফ’র প্রতিবেদনে জাতিসংঘের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাংবাদিক হত্যায় ‘অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী’ তথা আইএস’র মতো সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠনগুলোর বর্ধিষ্ণু ভূমিকা স¤পর্কে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে নিহত সাংবাদিকদের দুই-তৃতীয়াংশই যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ২০১৫ সালে পরিস্থিতি স¤পূর্ণ বিপরীত। যেসব দেশে কোন যুদ্ধে নেই, সেসব দেশেই নিহত হয়েছেন দুই-তৃতীয়াংশ সাংবাদিক।
আরএসএফ’র সাধারণ স¤পাদক ক্রিস্টোফে ডেলোয়ের বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীসমূহ’ পরিকল্পিত হত্যাকা- চালায়। এছাড়া বহু দেশের সরকার আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বাধ্যতামূলক বিধি অনুসরণ করে না। পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের একজন বিশেষ প্রতিনিধি দেরি না করে অবশ্যই নিয়োগ দিতে হবে।
২০০৫ সাল থেকে মোট ৭৮৭ জন সাংবাদিক নিজেদের কাজের জন্য খুন হয়েছেন। এ বছর এ তালিকায় যোগ হয়েছে ৬৭ জন। প্যারিস ভিত্তিক সংগঠনটি বলেছে, ২০১৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ৬৬। এ বছর সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপদসংকুল স্থান ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়া। দেশ দু’ টিতে যথাক্রমে ১১ ও ১০ জন নিহত হয়েছেন।
এর পরের স্থানেই আছে ফ্রান্স। দেশটিতে জানুয়ারি মাসে বিদ্রƒপাত্মক ম্যাগাজিন চার্লি এদবোর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয় ৮ সাংবাদিক। আরএসএফ বলেছে, এটা নজিরবিহিন ঘটনা। কোন পশ্চিমা দেশ এর আগে এ ধরণের ঘটনার শিকার হয়নি। চার্লি এদবোর সাংবাদিক ও কর্মীদের এরপর থেকে কড়া সুরক্ষার আওতায় রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবুও অনেক সাংবাদিককেই নিত্য নিজেদের বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোকে প্রতিবেদনে পেশাদার ও নাগরিক সাংবাদিকদের জন্য ‘মাইনফিল্ড’ বলে আখ্যায়িত করেছে আরএসএফ।
প্রতিবেদন মতে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ‘প্রাণঘাতি’ দেশ ভারত। দেশটিতে গত বছর ৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদের অনেকে সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ চক্র, তাদের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের স¤পর্ক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছিলেন। বাকিরা অবৈধ খনন নিয়ে প্রতিবেদন লেখার জন্য খুন হয়েছেন। নিজেদের কাজের জন্য খুন হয়েছেন ৫ সাংবাদিক। বাকি ৪ সাংবাদিকের নিহত হওয়ার কারণ অনিশ্চিত। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ছাড়িয়ে তাই এশিয়ায় সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ‘প্রাণঘাতি’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারত। আরএসএফ ভারত সরকারের প্রতি সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে খুন হয়েছেন ৪ ধর্ম-নিরপেক্ষ ব্লগার, যেসবের দায়ভার নিয়েছে স্থানীয় জঙ্গিরা। আরএসএফ বলেছে, এসব ঘটনায় বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার দরুণ এক ধরণের বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা নাগরিক সাংবাদিকদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক।
প্রতিবেদনে ২০১৫ সালে জিম্মি হওয়া ৫৪ সাংবাদিকের স¤পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। এদের ২৬ জন সিরিয়ায় অপহৃত হয়েছেন। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ১৫৩ সাংবাদিক। এদের ২৩ জন চীনে, ২২ জন মিশরে।