ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য সতর্কসংকেত

101

gourbangla logo

প্রতিবেশী ভারতের মণিপুর রাজ্যে সোমবার ভোরে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকাসহ গোটা দেশ যেভাবে কেঁপে উঠল, তা সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে তীব্রতম। বিদায়ী বছরের অক্টোবরে পাক-আফগান সীমান্ত অঞ্চল ও এপ্রিলে নেপালে সংঘটিত ভূমিকম্পের মাত্রা এর চেয়ে বেশি হলেও আড়াই হাজার ও আটশ’ কিলোমিটার দূরত্বের কারণে বাংলাদেশ থেকে এবারের মতো অনুভূত হয়নি। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র সাড়ে তিনশ’ কিলোমিটার দূরত্বে ঝাঁকুনির তীব্রতার কারণে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বেশি এবং ঢাকা, রাজশাহী ও লালমনিরহাটে তিনজনের মৃত্যু ও দেশজুড়ে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন মূলত ‘আতঙ্কে’। এই আশঙ্কা অমূলক নয় যে, ভোরের বদলে দিনের আলোয় কর্মব্যস্ত সময়ে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হলে আতঙ্কে ও হুড়োহুড়িতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ত। আমরা এই ভূমিকম্পকে বাংলাদেশের জন্য ঘুম ভাঙানোর সংকেত হিসেবে দেখতে চাই। ভারত ও মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং প্রতিবেশীর এই বিপর্যয়ে চিকিৎসা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানের পাশাপাশি আমরা একই সঙ্গে ভূমিকম্প মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি গ্রহণেও জোর তাগিদ দিতে চাই। এই আশঙ্কা অমূলক নয় যে, আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প তার মাত্রার চেয়েও ভয়াবহ হয়ে দেখা দিতে পারে। তার চেয়েও আশঙ্কার বিষয়, এ ধরনের একটি দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতিও এখন পর্যন্ত সামান্য। আমরা দেখেছি, রানা প্লাজাসহ রাজধানীতে কয়েকটি ভবন ও কারখানা ধসের ঘটনায় আমাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাজুকতা স্পষ্ট ছিল। বস্তুত ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশ ভূমিকম্প-ঝুঁকি অঞ্চলে রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অধিকাংশ নগরের অপরিকল্পিত উচ্চতা ও সম্প্রসারণ। মনে রাখতে হবে, ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও আমাদের হাতে খুব বেশি নেই। ভূমিকম্পের ফলে যে সংখ্যক মানুষ আহত হতে পারে, তাদের চিকিৎসা করার সামর্থ্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কতটা আছে, এখনই ভেবে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ভবন ও ভারী স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা চাই। এ জন্য সরকারের প্রস্তুতির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। এগিয়ে আসতে হবে উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও। আমরা জানি, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়; কিন্তু উপযুক্ত প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব। বিপরীতে প্রস্তুতিহীন থাকা আত্মঘাতেরই নামান্তর।