জরুরী সর্বোচ্চ সতর্কতা

gourbangla logo

পবিত্র হজের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম বার্ষিক মুসলিম ধর্মীয় জমায়েত ঘটে বিশ্ব ইজতেমায়। কমবেশি ১৫০ দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইজতেমায় অংশ নেয়। প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ লোক দু’ধাপের আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়। ইজতেমা আরবী শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সমাবেশ বা সম্মেলন। ধর্মীয় কোন কাজে বহু সংখ্যক মানুষকে একত্র করাই ইজতেমা। পৃথিবীতে মানবতার কল্যাণে মুসলমানদের দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে; এরই মহড়া ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয় এই বিশ্ব ইজতেমার মাধ্যমে। ইজতেমায় ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্যলাভ, আত্মার শুদ্ধতা অর্জন, জীবের ও পরজনে দয়া, মানবতার বিকাশ, সৎ চিন্তা ও সৎ কর্ম সম্পাদন, পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোপরি ইহলৌকিক মঙ্গল ও পারলৌকিক মুক্তিলাভ। এ মানসিকতা দৃঢ়ভাবে অর্জন ও ধারণ করার চিরকালীন ব্রত এই বিশ্ব ইজতেমা। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এই জমায়েত ঘটে।
২০১১ সালের আগে প্রতিবছর এক ধাপে ইজতেমা হতো। ঐ বছর হতে তা দু’ধাপে করা হয় লোক সমাগম ধারণ ক্ষমতার বেশি হওয়ার কারণে। এমনকি দেশের ধর্মপ্রাণদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ৬৪টি জেলাকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩২টি জেলার মুসলিমরা যোগ দেবেন। এর মধ্যে প্রথম পর্বে ১৬টি ও দ্বিতীয় গর্বে ১৬টি জেলা অংশ নেবে। বাকি ৩২টি জেলা আগামী ২০১৭ সালে একই পদ্ধতিতে অংশ নেবে। অর্থাৎ প্রতিটি জেলার মুসল্লিরা এক বছর পর পর এতে অংশ নিতে পারবেন। যাঁরা এবার অংশ নেবেন, তাঁরা আগামী বছর অংশ নিতে পারবেন না। যে সব জেলার মুসল্লিরা এ বছর অংশ নিতে পারছেন না, সে সব জেলায় স্থানীয়ভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিদেশী মুসল্লিরা প্রতি বছর অংশ নিতে পারবেন।
মোট ৬ দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে ৮ জানুয়ারি। আর আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে ১০ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি। গত বছর বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের যোগদানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে বিএনপি-জামায়াত জোট অবরোধ ও হরতাল ডেকেছিল। মুসল্লিরা অনেক কষ্ট সয়ে তথাপি অংশ নিয়েছিলেন। বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ব্যক্তিরা যোগদানে বাধা দিতে অনেক স্থানে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, ফেরার পথেও একই অবস্থা হয়েছিল। অনেকেই আহত হয়েছিলেন এসব ঘটনায়। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক মাস ধরে দেশের মুসলিমসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে বোমা বিস্ফোরণে হত্যাকা- ঘটিয়ে আসছে। এমনকি মসজিদে আত্মঘাতী বোমারও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রটি অত্যধিক গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত জেএমবি নামক নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনটি নাশকতায় সিদ্ধহস্ত। তারা ইতোমধ্যে আত্মঘাতী স্কোয়াডও গঠন করেছে। সে কারণে কঠোর নিরাপত্তা জরুরী। এরই অংশ হিসেবে আইএস এবং আল কায়েদার উপস্থিতি আছে এমন দেশের মুসল্লিদের এবারের ইজতেমায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ইজতেমা শুরুর তিন দিন আগে ভিসা বা পাস দেয়া হবে। ইজতেমার এক সপ্তাহ আগেই সীমান্ত পথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ রোধে প্রতিটি স্থলবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও পাসপোর্ট অধিদফতরের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে ভিসা প্রদানের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইজতেমা চলাকালেও কাছাকাছি সময়ে কোন বিদেশী অতিথিকে ট্রানজিট ভিসা প্রদান না করার জন্য বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাসকে বলা হয়েছে। সম্প্রতি একাধিক ধর্মীয় জঙ্গী গোষ্ঠীর বিশ্বব্যাপী সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার কথা সরকার বলছে। ইজতেমার নামে কোন জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্য যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা কার্যকরে ঘাটতি যেন না থাকে। এছাড়া ইজতেমার নামে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধেরও সিদ্ধান্ত রয়েছে। জঙ্গী হুমকির মুখে থাকা এই সময়ে তাই প্রয়োজন কঠিন ও কঠোর এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ। দেশবাসীসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ কোন সহিংসতা আশা করে না।