জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা সফল

gourbangla logo

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি পরীক্ষায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) অংশগ্রহণকারী ৫৬ লাখ পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশ বিদায়ী বছরের শেষ দিনকে সত্যিই বিশিষ্ট করে তুলেছিল। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পর্যায়ে যথাক্রমে প্রায় ৯৯ ভাগ ও ৯৬ ভাগ এবং জেএসসি ও জেডিসিতে প্রায় ৯৩ ভাগ পাসের বিপুল হার স্বভাবতই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অধিকাংশকে উচ্ছ্বসিত করে তুলেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার নিম্ন পর্যায়ের পরীক্ষায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই উচ্চ সাফল্যে আমরাও আনন্দিত। সারাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের আমরা অভিনন্দন জানাই। বিশেষভাবে বলতে হবে জেএসসি ও জেডিসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কথা। আমাদের দেশে এক সময় অষ্টম শ্রেণি পাস ছিল কর্মসংস্থানের ন্যূনতম যোগ্যতা। এখন দেখা যাচ্ছে মাত্র এক বছরেই শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর তালিকায় জেএসসি ও জেডিসি মিলে প্রায় ২১ লাখ নতুন মুখ যুক্ত হলো। উচ্চশিক্ষা ও কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। আনন্দের এমন উপলক্ষে আমরা প্রত্যাশা করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই মেধাবী মুখগুলো আগামী দিনেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে পাসের হার শতভাগেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে পাসের হারের পাশাপাশি আমরা জোর দিতে চাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও গুণগত মান বৃদ্ধির দিকে। প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার কমানোর দিকেও নজর দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় এটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে আসে। বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার যত হ্রাস পাবে, দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তত আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে। আমরা জানি, সরকারের পাশাপাশি বেশ কিছু বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানও ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগবঞ্চিত শিশুদের জন্য উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এখন সবাই মিলে প্রচেষ্টা চালালে অন্তত আলোচ্য দুই পর্যায়ে শতভাগ বিদ্যালয়গম্যতা ও শতভাগ পাস নিশ্চিত করা কঠিন নয়। আমরা কি এ চ্যালেঞ্জ নিতে পারি না? একই সঙ্গে কেবল পাসের হার বৃদ্ধি নয়; শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও যথার্থ যাচাইয়ের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। এমন নজির অনেক রয়েছে যে, পরীক্ষায় ভালো করার জন্য বিদ্যালয়ের পাঠদানের বাইরেও ‘প্রাইভেট’ টিউশনির বিপুল ব্যবস্থা করে থাকেন আর্থিকভাবে সক্ষম অভিভাবকরা। পরীক্ষায় ভালো করার চাপে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক জীবন বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কাও গবেষকরা নানাভাবে প্রকাশ করে আসছেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তো বটেই, অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে ভাববেন বলে প্রত্যাশা। শহর ও গ্রামে খেলাধুলার ব্যবস্থা ও সময় সংকুচিত হওয়ার কারণে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কতখানি ভারসাম্যপূর্ণ হচ্ছে, সেটাও ভাবনা-চিন্তার বিষয়। আমরা মনে করি, জেএসসি, পিএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারের ঊর্ধ্বগতি যখন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, তখন শিশু-কিশোরদের পাঠ-বহির্ভূত বিষয়াদিতেও নজর দেওয়া উচিত।