উন্নয়নের অনেক সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে

109

gourbangla logo

উন্নয়নের অনেক সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে, আবার কিছু কিছু সূচকে বিশ্বে তো বটেই দক্ষিণ এশিয়ায়ও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে থাকা তেমনি একটি দিক হচ্ছে রাজনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসনের অভাব। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি প্রধান শর্ত হলো সুশাসন। এর অভাব হলে দুর্নীতি ডালপালা বিস্তার করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বাড়ে। অন্যদিকে দুর্নীতি বেড়ে গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি বাধাগ্রস্ত হয় নাগরিকদের নানা রকম সেবাপ্রাপ্তিও। তারা নানা রকম দুর্ভোগের শিকার হয়। গত রবিবার প্রকাশিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) অধীনে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে তেমনি কিছু চিত্র উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ের অগ্রগতি বিবেচনায় দেখা যায়, কোনো খাতের একটি দিকে যথেষ্ট অগ্রগতি হলেও একই খাতের আরেকটি দিক অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। যেমন, মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য অভূতপূর্ব। যেসব দেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে। কিন্তু ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক কোটি ৪০ লাখ মা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বাংলাদেশেই। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ অনেক এগোলেও দেখা যায়, নার্সের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বনিম্ন। আবার চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়লেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণহীন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কারণে চিকিৎসাশিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। একইভাবে শিক্ষার কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণহীন শিক্ষাব্যবস্থার কারণে প্রায়ই সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ উঠছে। সংখ্যা বিবেচনায় এসএসসি, এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ বছরে প্রায় দুই হাজার গুণ বেড়েছে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায়, এদের ৭৫ শতাংশ ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এমন অবস্থা আরো অনেক ক্ষেত্রেই।
দুঃখের বিষয়, ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হলেও সে তুলনায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন খুব কমই হয়েছে। রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীর সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসায়ীর সংখ্যা। জনসেবার চেয়ে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার দিকেই এখন নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেগুলো মোকাবিলা করতে পারে না। যেমনটি দেখা যায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও। আবার প্রশাসনের রাজনৈতিকীকরণও ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্নীতি। উন্নয়নকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে রাজনীতির এই নেতিবাচক দিকগুলো থেকে দেশকে মুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, সরকার ও রাজনীতিবিদরা এই লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।