শিবগঞ্জে খুনের দায়ে ১৮ জনের যাবজ্জীবন

94

gourbangla logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আব্দুল করিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় ১৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারক গোলাম আহম্মেদ খলিলুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ আদেশ দেন। এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৩৮ জন আসামির মধ্য ২০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সব আসামি উপস্থিত ছিলেন। দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মৃত উনুর ছেলে মনিরুল ইসলাম ও শান্তিজুল ইসলাম, সামসুদ্দিনের ছেলে বাইরুল, মৃত রুস্তম পালোয়ানের ছেলে আনছার আলী, মৃত ফজলুরের ছেলে আনোয়ার ও সাদেকুল, মৃত মনতাজ আলীর ছেলে লাড্ডু, ইয়াছিনের ছেলে আলাউদ্দিন, মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমান, মৃত কিনু ম-লের ছেলে বক্তার আলী, জালালের ছেলে মতিন, মহসিন আলীর ছেলে জালাল, আলাউদ্দিনের ছেলে বকুল ডাক্তার, কালুর ছেলে জিয়াউর রহমান, চাচুর ছেলে বিশু, ছাইাফুরের ছেলে আলম, তমিজউদ্দিনের ছেলে আলম ও হাবিল উদ্দিনের ছেলে বাইরুল। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, আনসার আলীর ছেলে আলআমিন, মনিরুল ইসলামের ছেলে নুরুল, লাড্ডুর ছেলে হায়াত আলী ও কোহার আলী, আয়নালের ছেলে শাহীন, মুক্তার আলীর ছেলে রুবেল, মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে সওদাগর, আতাউর রহমানের ছেলে জাক্কার আলী, মৃত ফজলুর ছেলে কালু, ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মাহেদুর, জালালের ছেলে হেলাল, মৃত মন্টুর ছেলে আবু, মৃত হেরাজ উদ্দিনের এমরুল, বকুল কাপুড়ার ছেলে শফিকুল ইসরাম, বক্তার হাজীর ছেলে রোসদুল, শওকতের ছেলে কালু, মৃত আতুর ছেলে আলম, আক্তারের ছেলে গাওয়া, মৃত এনতাজের ছেলে রাকিব ও আলীর ছেলে বজু। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজলোর চকর্কীতি গ্রামের নাইমুল ইসলামের দখলে থাকা জমিপ্রতিপক্ষ দখলের চেষ্টা করে। এ সময় ওই জমির জোগানদার আব্দুল করিম তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাইরুল ও মনিরুল লোহার রড দিয়ে করিমকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে ধরে বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে।প্রায় চার ঘণ্টা পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আব্দুল করিমকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল করিম মারা যান। ওই ঘটনায় জমির মালিক নাইমুল হক বাদী হয়ে ৩০ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্য আসামি নাজমুল মারা যান। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৭ জুলাই মামলাটি রাজশাহীর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এন্তাজুল হক বাবু জানান, ভিকটিম উপযুক্ত বিচার পেয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অংকুর সেন জানান, রায়ের বিপক্ষে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।