বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ১০৭ কোটি ডলার দিচ্ছে জাইকা

05-

বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের ছয় প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ১০৭ কোটি ডলার দিচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা) অনুযায়ী এর পরিমাণ ৮ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। জাপানি মুদ্রার হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ঋণ।
রোববার এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাপান সরকার ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির জেষ্ঠ্য সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন এবং জাইকার পক্ষে আবাসিক মিকিও হাতায়েদা এ চুক্তিতে সই করেন। এ সময় জাইকা, ইআরডি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই ঋণের জন্য বার্ষিক সুদের হার হবে দশমিক শূন্য এক শতাংশ। ঋণ শোধ করতে হবে ৪০ বছরে। ঋণ চুক্তিতে গ্রেস পিরিয়ড ধরা হয়েছে ১০ বছর; অর্থাৎ এই সময়ে কিস্তি শোধে সুদ দিতে হবে না। জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ৩৬তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় এ ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি।
মেজবাহউদ্দিন অনুষ্ঠানে বলেন, জাপানি এই সহায়তা অর্থনীতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে অনেক বিনিয়োগ দরকার। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এসব দিক বিবেচনায় জাইকার ঋণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাপানি রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে বলেন, জাপানি মুদ্রার হিসেবে এটাই বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানের সবচেয়ে বড় ঋণ সহায়তা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরের সময় জাপান সরকার পাঁচ বছরে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি তারই প্রতিফলন।
সুদের হার বাড়ানো হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব সময়ই বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ঋণ দিতে আগ্রহী জাপান। আপতত এ অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই।
জাইকার আবাসিক প্রতিনিধি জানান, নতুন ছয়টি প্রকল্পে ১৩৩ বিলিয়ন ২৬৫ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন দিচ্ছে। এর আগে এতো বড় ঋণ দেয়নি জাপা। দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশকে আর্থ-সামাজিকসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দিচ্ছে। আগামীতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) লিমিটেডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মূল সঞ্চালন লাইন শক্তিশালীকরণে ২ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অর্থ বিভাগের বিদেশি বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার কোটি টাকা, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের পশ্চিমাঞ্চলের সেতু উন্নয়নে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মা, নবজাতক, শিশু স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতরের নগরে ভবনের ঝুঁকি কমানো প্রকল্পে ৭৬০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা গভর্ন্যান্স উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার কোটি টাকা দেবে জাইকা।
সংস্থাটির অর্থায়নে বর্তমানে প্রায় অর্ধশত প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষতা উন্নয়ন, ইনক্লুসিভ সিটি গভর্ন্যান্স, হাওরের বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং জীবিকার উন্নয়ন, ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কৃষি উৎপাদনের উন্নয়ন এবং বৈচিত্র্যায়নে অর্থায়ন প্রকল্প।