পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি

89

পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপিপরিস্থিতি বিবেচনা করে পৌর নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। কৌশলগত কারণে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পৌনে ১২টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা জানি পৌর নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ হবে না। প্রশ্ন থাকতে পারে তাহলে আমরা কেন নির্বাচনে যাচ্ছি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। পৌর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা কেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাস্যোজ্জল ভঙ্গিতে ফখরুলের জবাব আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা, বিগত ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝা যায় এ নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো মাঝ পথ থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে কি না এরকম প্রশ্নের জবাবে সদ্য কারামুক্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটা রাজনৈতিক দলের কৌশল। সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় রাজবন্দীদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মজিবর রহমান সরোয়ার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটওয়ারী প্রমুখ।
এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা যারা ভিন্ন চিন্তা, বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করি তাদের কোনো স্পেস নেই। আমরা কোনো সভা করতে পারি না। এমনকি জেলা শহরগুলোতেও সভা করতে দেয়া হয় না তিনি বলেন, মুক্তচিন্তা করার অধিকার থেকে আজ বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত। একাত্তরে যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছিল, সে যুদ্ধ আমাদের আজো করতে হচ্ছে। ফখরুল বলেন, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী এখন জেলে আছেন। বিভিন্ন পৌরসভায় আমাদের নির্বাচিত মেয়রদের নানা অজুহাতে বরখাস্ত করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের নামে এ ধারা চলতে পারে না।