রাবি ছাত্রলীগের ছয় হলের নতুন কমিটি ঘোষণা

111

gourbangla logo

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের ৮টি হলের মধ্যে ৬টি হলের নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নব গঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন রাজশাহী আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ঘোষিত এসব কমিটিতে নেতৃত্ব এসেছেন এমন কিছু নেতা যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-মারধরসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েছেন এমন নেতাকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে। এছাড়া ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক অছাত্রদের পদ আসার সুযোগ না থাকলেও তাদেরকে নতুন কমিটিতে রাখা হয়েছে। নতুন কমিটিতে নির্বাচিত হয়েছেন- সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি রাজীব হোসেন সিকাদর (ছাত্রত্ব শেষ মার্কেটিং বিভাগ-সেশন-২০০৭-০৮), সাধারণ সম্পাদক সেজান মাহমুৃদ।  মাদার বখ্শ হলের সভাপতি হয়েছেন কাজী রবিউল ইসলাম বনি (ম্যানেজমেন্ট-এমবিএ) ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাসুদ রানা (সমাজবিজ্ঞান-২য় বর্ষ)। মতিহার হলের সভাপতি হয়েছেন সরিৎ কাইয়ুম তালুকদার (মার্কেটিং-৪র্থ বর্ষ), সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন গিয়াসউদ্দিন (লোক প্রশাসন বিভাগ-৪র্থ বর্ষ), সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রেজাউল করিম শামীম (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সভাপতি হয়েছেন আরিফুল ইসলাম আরিফ (মনোবিজ্ঞান-মাস্টার্স) ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রাজীব হোসেন (অর্থনীতি-৩য় বর্ষ)। শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সভাপতি হয়েছেন এ জেড এম জিল্লুর রহমান মাসুম (মার্কেটিং-মাস্টার্স) ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. বরজাহান আলী (প্রাণীবিদ্যা -৪র্থ বর্ষ)। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কৃত (ফিশারীজ বিভাগ-৪র্থ বর্ষের) শিক্ষার্থী মামুন-আর রশিদকে হবিবুর রহমান হলের সভাপতি করা হয়েছে এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ওমর ফারুক বায়োজিদ (হিসাব বিজ্ঞান-৪র্থ বর্ষ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হবিবুর রহমার হলের নতুন সভাপতি মামুন-আর রশিদকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান প্রকৌশালীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।  জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৮ আগষ্ট তারিখে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় উপাচার্যের দপ্তরের অপেক্ষমাণ কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীরকে মারধর করেন তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তন্ময় আনন্দ, নব গঠিত হল কমিটির সভাপতি মামুন। এ ঘটনায় উপাচার্য তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ওই তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। বহিষ্কার প্রাপ্ত এমন ব্যাক্তিকে পদে নিয়ে আসায় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি করা হয়েছে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে দুই বছর আগে পড়াশুনা শেষ করা রাজিব হোসেন সিকাদারকে। এছাড়া হল কমিটির পদে আসতে তাকে এই হলের শিক্ষার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তার ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। জানা গেছে, রাজীব সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে। তাকে পদে নিয়ে আসায় ছাত্রলীগের ভিতরের নানা ধরণের সমলোচনা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বলেন, সভাপতি গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করেই নিজের লোককে পদে নিয়ে বসিয়েছেন।
এদিকে মাদার বখ্শ হলের নতুন সভাপতির বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ। গত ৫ অক্টোবর গভীর রাতে বনির নেতৃত্বে আরো কয়েকজন চাঁদা দাবি করে মাদার বখ্শ হলের আল-আমিন নামের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। এ ঘটনার ঠিক আগের দিন তথা ৪ অক্টোবর জিয়া হলের এক শিক্ষার্থীর লকার ভেঙে জোরপূর্বক তার ল্যাপটপ নিয়ে আসে।  এদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের শুধু সভাপতি পদে কপিলদেব সরকারকে (ফলিত পদার্থ-মাস্টার্স) সভাপতি করা হলেও তার বিরুদ্ধে ছাত্রদল করার অভিযোগ আসায় উক্ত কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।  এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে, ফোনে পাওয়া যায়নি।
মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কমিটি ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান বিপ্লব। রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।