হামারঘে ব্রিজ পার হয়্যা লবগঞ্জ অ্যানু

107

11074540_927253193963845_402132611_n

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার উদ্বোধন করেছেন চরাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের সেতু। উদ্বোধনের পর জসাধারনের জন্য উনমুক্ত করে দেয়া হয় মহানন্দা নদীর উপর সাহেবেরঘাটে নির্মিত শেখ হাসিনা সেতু। নতুন এই সেতুর উপর দিয়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই জেলা শহরে আসতে পেরে খুশি চরাঞ্চলের মানুষরা। রবিবার সকালে সাহেবের ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় জেলা শহরের দিকে ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনে সেতুর উপর দিয়ে আসছেন অনেকেই। এ সময় সেফালী বেগম নামে একজন জানান “নবগঞ্জে বেটির বাড়িতে যাব বাবা, ব্রিজ হওয়াতে হ্যামার ঘে খুব সুখ হয়্যাছে। যেমন অ্যাজ ভোরে হ্যামার ঘে ব্রিজ পার হয়্যা লবগঞ্জ অ্যানু কোন দিরমই লাগেনি।” শুধু সেফালী বেগম না চরাঞ্চলের বিভিন্ন  ইউনিয়নের মানুষের জীবনে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে।
ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারনে চরাঞ্চলের অনেকেই জেলা সদরে বসবাস করতেন, নতুন সেতু হওয়ার ফলে তাদের অনেকই তাদের পুরোনো বাড়িতে ফিরে গেছেন এবং যাচ্ছেন। অনায়াসেই আতীয় স্বজনদের সাথে তারা দেখা করেছেন এবং করছেন ।
নতুন  সেতুতে মানুষের ভিড়
নতুন এ সেতুটি দেখতে শনিবার দুপুরে উদ্বোধনের পর বিকেল থেকে যে সংখ্যক মানুষ সেখানে গিয়েছে তাদের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। শহরের মানুষ গুলো একটু নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর আশায় হয়তবা ছুটে গেছেন শেখ হাসিনা সেতুতে। প্রিয় মানুষটির সাথে ডুবন্ত সূর্যকে বিদায় জানাতে জানাতে অনেকেই হেঁটেছেন সেতুর পুরোটা পথ। স্মৃতি ধরে রাখতে ঘুরতে আসা কেউবা সেলফি কেউবা তুলেছেন ছবি। সেতুর উপর দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুল হামিদ জানান, আমরা সব বন্ধু মিলে মহানন্দা সেতুতে ঘুরতে এসেছি। ব্রিজের সবখানেই ঘুরলাম। ভালো লাগছে, সন্ধ্যার পর সময় কাটানো যাবে। এই সেতু একটি চমৎকার সৃষ্টি।
নতুন সেতুটি দেখতে আশা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় ভ্রাম্যমান বিভিন্ন খবার বিক্রেতা এরই মধ্যে জড়ো হতে শুরু করেছে।
ফুচকা বিক্রেতা আসলাম জানান নতুন ব্রিজ দেখতে ভালই মানুষ আসছে, তাই এখানে ফুচকা বিক্রি করছি, বেচা বিক্রিও মন্দ না।
নতুন এ সেতুও শুধু চরাঞ্চলের  মানুষের নতুন দিনের সূচনায় করেনি, যেন হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের ঘুরে বেড়ানোর একটি নতুন উপলক্ষ্য। শেখ হাসিনা সেতুর পার্শে¦ একটি পর্যটন কেন্দ্র বা পার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা হতে পারে শহরে মানুষের জন্য একটু ঘুরে বেড়ানো একটু সময় কাটানোর সুযোগ।

আব্দুর রব নাহিদ