১৮ বছর ধরে চা বিক্রি করে চলেছেন লাল বানু

SAM_1946 (Custom)

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পৌরসভার সামনে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চা বিক্রি করে সংসার চালচ্ছেন জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী নারী লাল বানু। জীবনের অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ তিনি সফল একজন চা ব্যবসায়ি। সেই ২০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। এক ছেলে আর এক মেয়ে তার। স্বামী মারা যাবার পর কষ্ট করে তাদের তিল তিল করে বড় করে তুলেছেন। জীবন চলার পথে নানা রকম কায়িক পরিশ্রম করেছেন লাল বানু। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঝি এর কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। কখনো কখনো নিজে না খেয়ে সন্তানদেরকে খাইয়েছেন। কিছুদিন আগে এক দুপুর বেলা যখন তার সাথে কথা বলছিলাম, হাসতে হাসতে লাল বানু বলল, কি হবে বাবা আমার কথা পত্রিকাতে লিখে। মানুষ আমার কাহিনী যেনে কি করবে। সংসার কেমন চলছে জানতে চাইলে লাল বানু বলেন, সংসারে মেয়ে তার দুই সন্তান, আমার বড় ছেলে তার বউ ও তারও দুই সন্তান সবকিছু আমাকেই চালাতে হয়। ছেলেটাকে নিয়ে খুব স্বপ্ন ছিলো আমার কিন্তু ছেলেটা আমার মানুষ হয়নি। আমার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। শহরের কালি তলায় লাল বানুর বাড়ি। সেই ভোর চারটার সময় দোকান খুলে সন্ধা সাতটা পর্যন্ত বেঁচাকেনা করেন তিনি।
সারা দিনে কত চাবিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন সময় ১ হাজার টাকা, কোন সময় ১ হাজার ৫শ’ টাকা আবার কোন কোন দিন ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা হয় । সব খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে তাই দিয়েই জীবনটাকে চালিয়ে নিচ্ছেন লাল বানু। মাঝে মাঝে শরীর খারাপ থাকলে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তিনি। কারণ, তার রয়েছে হার্টের সমস্যা। শরীর না চললে তার কোন কিছুই ভাল লাগে না। বাড়িতে চুপচাপ পড়ে থাকেন। ছেলেকে দোকান চালাতে দিতে চান না তিনি। কারণ তার ছেলে এই সব কিছুই বোঝেন না।
ভবিষ্যতে কি করবেন জানতে চাইলে লাল বানু বললেন, যতদিন পারি কাজ করেই রোজগার করতে চাই। সেই ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমি রোজগার করেই আমার জীবন সংসার চালাচ্ছি। কারও কাছে দান চাই না বাবা, আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে কাজ করেই রোজগার করতে চাই। তবে হ্যাঁ কেউ ভালবেসে কিছু দিলে সেটা নিতে পারি। এই সমাজে কজন নারী পারে লাল বানুর মত কষ্ট করে জীবন চালাতে।

ডি এম কপোত নবী