চাঁপাইনবাবগঞ্জে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ

20150425_121502 (Custom)

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনিবার দু’দফায় প্রায় ২ মিনিটের ভূমিকম্পে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এসময় আতঙ্কিত হয়ে বেশ কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অজ্ঞান অবস্থায় বিভিন্ন এলাকার শিশুসহ ২৫জন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোসফিকা কাওসারী জানান, ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে প্রথমে ৯জন হাসপাতালে আসে। এদের সকলেই নারী। ৩জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকিরাও আশংকামুক্ত। অজ্ঞান হওয়া শিশু ও নারীরা হলেন, আসমা (৩২), শান্তা (৭০), মনোয়ারা (৩৪), সুমাইয়া (১২), জান্নাতুল (১৫), অলকা (২৬), পান্না (১৫), কুলসুম (১৭) ও আসমা (১৫)। অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
দু’দফার ভুমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। শহর ও গ্রামের মানুষজন ঘর ছেড়ে তড়িঘড়ি করে রাস্তায় নেমে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীরা আতংকিত হয়ে শ্রেণীকক্ষ থেকে বেরিয়ে আশ্রয় নেয় খোলা মাঠে। ভূমিকম্পের পরপরই বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদীর পানি উথালপাথাল করে। শক্তিশালী ভুমিকম্পের পর আতংকিত মানুষের মাধ্যমে নানান গুজবের ‘ডালপালা’ ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। দ্বিতীয় দফার ভুমিকম্পের আগেই বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নানান ধরণের ‘ক্ষতিগ্রস্থের’ সংবাদ আসতে শুরু করে। প্রথম দফার ভুমিকম্প থেমে যাওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ক্লাব সুপার মার্কেটের সামনে শত শত উৎসক জনতা হরিমোহন স্কুল মুখি হয়ে ভিড় জমায়। ওই সময় তারা জানায়, হরিমোহন স্কুলের পুর্ব ব্লকের ৪ তলা ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্কুলের বাইরে সড়কে শত শত জনতা আর স্কুল মাঠে শত শত শিক্ষার্থী। এক আতংকিত পরিবেশ। এরই মাঝে গুজব ছড়িয়ে পড়ে ‘হরিমোহন  স্কুলের ভবন দেবে গেছে’। মুর্হুতেই এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে জেলা শহর থেকে উপজেলা গুলোতেও। তবে এ গুজবের অনুসন্ধান করতে গিয়ে এর কোন অস্থিত্বই পাওয়া যায়নি। সরজমিনে হরিমোহন স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের পূর্বব্লকের চার তলা ভবনের সাথে যুক্ত নুতন একতলা টয়েলেটের সংযোগস্থলে দু’ ভবনের আলাদা আলাদ বিমের মধ্যখানে ‘চির’ দেখা যায়। এতেই ‘ভবনে ফাটল ধরেছে’ এমন কথা প্রচার হয়। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভেতরের দিকে ‘চির’ দেখা গেলেও একই বিমের বাইরের অংশে থাকা পলেস্তার অটুট রয়েছে। শিক্ষকরা জানান, ওই দু’ বিমের মধ্যখানের ওই চির স্বাভাবিকভাবে আগে থেকেই ছিল। আগে কেউ খেয়াল করেনি বা আমলে নিয়ে আসেনি। ভুমিকম্পের পর তা দেখে আতংকটি ছড়ায়। এদিকে, ভুমিকম্পে অসুস্থ্য হয়ে শতশত মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এমন সংবাদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে হাসপাতালে গেলে হাসপাতাল সুত্র জানায়, মাত্র ৯ জন রোগি মাথাঘুরে ‘অজ্ঞান’ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিল।

শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্মরণকালের মধ্যে শক্তিশালী ভুমিকম্পে দেশের অন্যান্যস্থানের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জও কেঁপে উঠেছিল। প্রথম দফার প্রায় ১ মিনিট স্থায়ী ভুমিকম্পের প্রায় ১৯/২০ মিনিট পর দ্বিতীয় দফার ভুমিকম্পে আতংকিত হয়ে পড়ে মানুষ। হাজার হাজার মানুষ অবকাঠামো ছেড়ে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ছুটি দিয়ে দেয়া হয়, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। প্রলংকরী এই ভুমিকম্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওযা যায়নি। তবে ভুমিকম্পের ‘মাথাঘুরে’ অসুস্থ্য হয়ে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। সাধারণ মানুষ জানান, দুপুরে হটাৎকরেই মাটি বাড়িঘর দোলখাওয়া শুরু করে। তাৎক্ষণিক মানুষ ভুমিকম্পের বিষয়টি বুঝতে পেরে রাস্তায় ও খোলা মাঠে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ভুমিকম্প শুরুর পর দীর্ঘক্ষণও না থামায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তাগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দেখা যায় শত শত শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষ ছেড়ে স্কুলের মাঠে চলে আসে। ভুমিকম্পের পরপরই কিছুক্ষণ সেল ফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছিল। কয়েক জন প্রবীণ মানুষ জানান, স্মরকালের মধ্যে এতো দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী ভুমিকম্প তারা দেখেনি। অন্যদিকে শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট প্রতিনিধি জানান, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাটেও তীব্র ভুকম্পন অনুভুত হয়েছে। তবে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এ দিকে নিয়ামতপুর প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর নিযামতপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২.১৫ মিনিট পর্যন্ত  প্রায় ৩ মিনিট এ ভূমিকম্প হয়। এতে উপজেলার ছাতড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের  ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তানজিলা, আছিয়া ও ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শান্তা নামের তিনজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে, জ্ঞান ফিরে ভুল বকা শুরু করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাতড়া বাজারে ডা. ভুটুর কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিযেছে। এছাড়া উপজেলায় প্রায় সর্বত্রই ভূমিকম্প অনুভূত হয় কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া গোমস্তাপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শনিবার দুপুরের ২ দফা ভূমিকম্পে জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আতংকে স্কুল ছাত্রীসহ ১০ জন অজ্ঞান হয়ে পড়ে।  এদের মধ্যে ৩জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভূমিকম্পে বড় ধরণের কোন ক্ষতি না হলেও ভূমিকম্প চলাকালীন মানুষজন আতংকে ফাঁকা স্থানে নেমে আসে। এসময় অনেকেই বাড়িঘর, দোকানপাঠ, স্কুল-কলেজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। তবে উপজেলার কয়েকটি বাড়িঘর, দোকানপাঠ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনে ফাঁটল দেখা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রহনপুর রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত ১০জন ছাত্রী আতংকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এদের মধ্যে ২জন স্কুল ছাত্রী মেহেরুন (১৫) ও তৌহিদা (১৫) এবং গৃহবধূ সাগরী (৩৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভূমিকম্প আতংকে তাৎক্ষনিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা দেয়া হয়। এব্যাপারে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুল ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানরা বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ দেয়নি।