তুলসি গাছ হতে পারে আমাদের অসুখে-বিসুখের সঙ্গী

আদিকাল থেকেই মানুষ অসুখে-বিসুখে প্রাকৃতিক উপাদান বিশেষভাবে ভেষজ পদার্থ ব্যবহার করে আসছে। আজও গ্রাম বাংলার শতকরা ৯০ ভাগ এবং শহরের শতকরা ৬০ ভাগ লোক ভেষজ চিকিৎসা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেসব দেশে ফার্মেসিতে একটি কর্নারই থাকে প্রাকৃতিক ঔষধের জন্য। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে এসব ভেষজ উদ্ভিদের অনেকগুলোই লোকজ বা আঞ্চলিক-ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ডায়াবেটিকস নিরাময়ে ভেষজ পদ্ধতি চিকিৎসার গুরুত্ব রয়েছে। এবং ভেষজ চিকিৎসার সাহায্যে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তুলসি পাতার অনেক গুন। অনেক এ তুলসি গাছ বাড়ির উঠানেও লাগায়। খুব কাশি হলে তুলসিপাতার রস খুব এ কার্যকারী। এবার আসি ডায়াবেটিকস প্রসঙ্গে গবেষণাই দেখা গেছে যে তুলসি পাতা বিবিধ-ভাবে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পাতার ৮০ অ্যালকোহল নির্যাস খাবারের সাথে এবং তুলসি পাতার গুড়া পানিতে মিশিয়ে খাবার আগে খেতে হবে। এটি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এটি কোষের ভিতরে শর্করা প্রবেশ মাত্রা বাড়ায়।

tulsi

খাদ্যনালী থেকে শর্করার শোষণ বিলম্বিত করে। ইন্সুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ায়। যা ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিকস রোগীরা উপকৃত হয়। তুলসীপাতা সবথেকে বেশি যে অসুখের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে তা হল জ্বর। চায়ে তুলসীপাতা সেদ্ধ করে সেই পাণীয় যদি পান করেন, তবে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতি অসুখ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। আপনার পরিবারের কারো জ্বর হলে তাকে তুলসীপাতা এবং দারুচিনি মেশানো ঠান্ডা চা পান করালে জ্বর সেরে যাবে দ্রুত। সামান্য গরম জলে তুলসীপাতা দিয়ে সেদ্ধ করে নিয়ে, সেই জল দিয়ে গার্গল করলে বা জল পান করলে আপনার গলার ব্যাথা দ্রুত সেরে যাবে। সর্ন্দি-কাসি প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের খুব সাধারণ একটি অসুখ যা সবাইকে সমস্যা দেয়। এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে তুলসীপাতা ৫ মিনিট চিবিয়ে রসটি গিলে নিন। তাহলে এই সমস্যার হাত থেকে সহজেই সমাধান পেয়ে যাবেন। মাঝে মধ্যেই ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা আপনাকে জর্জরিত করে তোলে। ত্বকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের  সমস্যা দেখা যায়। সেই সমস্যা সমাধানের একটি সহজ ও অন্যতম উপায় হল তুলসীপাতার পেস্ট লাগান। তুলসীপাতার পেস্ট তৈরি করে তা ত্বকে লাগালে এই সমস্যাগুলি কমে যায়। তুলসীপাতা আপনার কিডনীর বেশ কিছু রোগের সমাধান করে দিতে পারে। তুলসীপাতার রস প্রতিদিন একগ্লাস করে পান করলে, কিডনীতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। যদি কিডনীতে স্টোন জমে যায় তবে তুলসীপাতার রস টানা ৬ মাস পান করলে সেই স্টোন মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এই গাছের আরও অনেক গুনাগুন রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের চারপাশে কতই না খোলা জায়গা পড়ে থাকে। অকারনে জন্ম নেয় নানা রকম আগাছা। তবে যদি আমরা একটু সচেতন হই তবে আমরা যে কেউ এই তুলসি গাছ লাগাতে পারি। শুধু গাছটি লাগালেই চলবে। তেমন যতœ না নিলেও এই গাছটি বড় হবে। পরিবারের প্রয়োজনে অত্যান্ত কার্যকারি তুলসি গাছ আমার, আপনার হয়ে ঠাঁই দাড়িয়ে থাকে বাড়ির আশপাশেই।

– ডি. এম. কপোত নবী