৭ মাসে আফগানিস্তানে ৪০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত: জাতিসংঘ

3

গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি ইরাকের সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএল হামলায় নিহত হন। সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদেন এই তথ্য জানানো হয়েছে।খবর আল জাজিরার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করার পর এটিই আফগানিস্তানকে নিয়ে প্রকাশিত প্রথম বড় মানবাধিকার প্রতিবেদন। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটিতে অবস্থানরত নারী, সাংবাদিক এবং অন্যান্যের অধিকার নিয়ে পশ্চিম বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত সময়ে আফগানিস্তানের খোরাসান প্রদেশে ইসলামিক স্টেট,আইএসকেপি (আইএসআইএস-কে) গ্রুপের ধারাবাহিক আক্রমণে ৩৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

একই সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হত্যার আগে বেশ কয়েকজনকে নির্যাতন ও শিরñেদ করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারের হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট গত সোমবার জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে পূর্ব আফগানিস্তানে প্রথম আবির্ভূত হয় সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসকেপি। তালেবান দেশটি দখলের পর এদের কার্যক্রম আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হামলার জন্য এই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে, যার মধ্যে গত আগস্টে কাবুল বিমানবন্দরে হামলাও আছে। একই বক্তৃতায়, ব্যাচেলেট জানান, আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব করেছে। তিনি জনজীবনে নারীদের ‘সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ’ নিশ্চিত করতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শাসনামলে তালেবান মেয়েদের শিক্ষায় বাধা দেয়। তবে এবার তারা জানিয়েছে, ওই নীতি পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাচেলেট ওই বক্তৃতায় আর জানান, আফগানিস্তান ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। আফগান জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাচেলেট উল্লেখ করেছেন, দেশটিতে এখন অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী অনাহারে আছে। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং শিশু বিক্রিও বেড়ে গেছে দেশটিতে। এছাড়াও জাতিসংঘের মতে, প্রায় ৯০ লাখ আফগান বর্তমানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।