৭০ মিলিয়নে টটেনহাম যাচ্ছেন দিবালা, ধারে কৌতিনহো!

2

কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নাকি জুভেন্টাস থেকে পাওলো দিবালাকে নিয়ে বিনিময়ে রোমেলু লুকাকুকে দিতে চায়। কিন্তু সেই জল্পনায় আপাতত পানি ঢেলে দিয়েছে টটেনহাম হটস্পার। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড দিবালাকে কিনতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।। আর তাতে রাজিও হয়েছে জুভেন্টাস।
দিবালার দলবদল অবশ্য এত সহজে হচ্ছে না। কারণ, তিনি নিজেই নাকি জুভেন্টাস ছাড়তে রাজি নন। এর আগে লুকাকুর সঙ্গে বিনিময় চুক্তিও নাকি দিবালার কারণেই স্বাক্ষরিত হয়নি। এদিকে এই বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) শেষ হচ্ছে ইংল্যান্ডের ট্রান্সফার মার্কেট। ফলে হাতে সময়ও নেই। যদিও ইটালিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, চুক্তি স্বাক্ষর এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।
জুভেন্টাসের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা দিবালার তুরিন ছাড়ার অনিচ্ছা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে বিশাল অঙ্কের বেতনের লোভও তাকে সিদ্ধান্ত থেকে টলাতে পারেনি। আর যদি টটেনহামের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হয়েও যান, বেতন কিন্তু প্রায় সমানই (ম্যানইউ’র প্রস্তাব অনুযায়ী) পাবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই চুক্তি আসলে কতটা সম্ভব?
এদিকে বার্সেলোনা থেকে ধারে টটেনহামে আসার সম্ভাবনা আছে ফিলিপ্পে কৌতিনহোর। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ থেকে কিছুদিন আগে আঁতোয়া গ্রিজম্যানকে কেনার পর থেকেই কৌতিনহো বোঝা হালকা করতে উদগ্রীব কাতালান জায়ান্টরা। দলে মেসি-গ্রিজম্যান থাকায় তার খেলার সুযোগ তেমন একটা থাকবেও না।
তাছাড়া কৌতিনহোকে বেচে নেইমারকে কেনার চেষ্টার কথাও শোনা যায়। তাই বার্সা যে তিনি ছাড়তে চাইবেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুরুতে পুরোনো ঠিকানা লিভারপুলের কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পরবর্তী ঠিকানা হতে পারে টটেনহাম।
অফ ফর্মে থাকা কৌতিনহোর বিশাল মূল্য পরিশোধ করা টটেনহামের পক্ষে কঠিন, তবে ধারে নিলে আর্থিক চাপটা কম হবে, এটা ভেবেই হয়তো ধারের প্রস্তাব দিচ্ছে টটেনহাম। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন দল ছাড়ার কথা জানিয়ে দেওয়ার পর থেকেই চিন্তায় পড়ে যান কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনো। এরপর থেকেই নিজের সাবেক শিষ্যকে দলে নিতে আগ্রহী হন তিনি।
পচেত্তিনোর অধীনে ২০১২ সালে এস্পানিওলে ধারে খেলতে এসে ১৬ ম্যাচে ৫ গোল করেছিলেন কৌতিনহো। তাছাড়া লিভারপুলের হয়েও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে গেছেন ব্রাজিলীয় তারকা। ইংলিশ কন্ডিশনে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই বার্সায় ‘অবহেলিত’ কৌতিনহোকে নিজের কাছে টানতে চান আর্জেন্টাইন কোচ। রোনালদো আসার পর দিবালাও জুভেন্টাসে অনেকটা অবহেলার শিকার। দুই অবহেলিত তারকাকে নিয়েই পরের মৌসুম শুরুর আশা করছেন টটেনহাম বস।
ফোর্বসের তালিকায় সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী নারী ক্রীড়াবিদ সেরেনা ও ওসাকা
বিশ্ব বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের তালিকায় সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী নারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছেন জাপানী টেনিস তারকা নাউমি ওসাকা। বরাবরের মত তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মার্কিন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস।
গত বছর ইউএস ও অস্ট্রেলীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয় ওসাকাকে সর্বাধিক অর্থ উপাজর্নকারীর তালিকার এই দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
এদিকে ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন সেরেনা টানা চতুর্থ বছরের মত এই তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি আনুমানিক ২৯.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন বলে এই ম্যাগাজিনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোর্বসের হিসেব অনুযায়ী ওসাকার মোট আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাঠের বাইরে থেকেই তিনি আয় করেছেন আনুমানিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেটি এক বছর আগেও ছিল মাত্র ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে জাপানী এই তারকা এখনো ফোর্বসের শীর্ষ ১০০ জন সেরা অর্থ উপাজর্নকারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় ঠাঁই পাননি। একমাত্র নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে একশ’ জনের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস। সেখানে ৬৩তম অবস্থানে জায়গা হয়েছে মার্কিন টেনিস তারকার।
ফোর্বস জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ১ জুন পর্যন্ত একজন ক্রীড়াবিদের প্রাইজমানি, বেতন, বোনাস, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও অংশগ্রহণ ফি’র ভিত্তিতে তারা এই তালিকা প্রনয়ন করেছে।
টেনিসের বাইরে তালিকার শীর্ষ নারী ক্রীড়াবিদদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন শুধুমাত্র মার্কিন নারী ফুটবলার এ্যালেক্স মরগান। তার জায়গা হয়েছে তালিকার ১২তম স্থানে। ফোর্বসের হিসেব অনুযায়ী তিনি আয় করেছেন ৫.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে মরগান হয়েছেন বিশ্বের সর্বাধিক অর্থ উপাজর্ননকারী নারী ফুটবলার। অপরদিকে বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ অর্থ উপাজর্নকারী ক্রীড়াবিদের আসন লাভ করেছেন। গত বছর তিনি আয় করেছেন ১২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রেকর্ড সংখ্যক চতুর্থবারের মত নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করা মার্কিন নারী ফুটবল দল পুরুষদের সমান সম্মানী চেয়ে দেশটির জাতীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করেও সাড়া পায়নি।
ফোর্বসের তালিকায় সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী শীর্ষ ১৫ জন নারী ক্রীড়াবিদের মধ্যে ১২ জনই টেনিস তারকা। যেখানে ১৩তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। তার আয় ৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ৫.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে তালিকার ১৫তম অবস্থান নিশ্চিত করেছেন থাইল্যান্ডের গলফার আরিভা জুটানুগার্ন।