৭০০ গোলের মাইলফলকে রোনালদো

3

একসময় যিনি গোলের পর গোল করে গেছেন, সময়ের থাবায় সেই তিনিই ছিলেন ছিলেন একটি গোলের কাতর অপেক্ষায়। শুধু মাইলফলকের জন্য নয়, খরা কাটানোর জন্যও। অবশেষে বহুকাক্সিক্ষত সেই গোলটি পেলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। মৌসুমে প্রথমবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খুঁজে পেলেন জালের ঠিকানা। তাতে উচ্ছ্বসিত তার কোচ এরিক টেন হাগ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচের ধারণা, এই গোলের বিশ্বাসের ছোঁয়ায় আরও অনেক গোল করবেন রোনালদো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার এভারটনের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়ে ব্যবধান গড়ে দেয় রোনালদোর গোল। শুরুতে ইউনাইটেড পিছিয়ে পড়লেও সমতা ফেরান আন্তোনি। পরে রোনালদোর গোল দলকে নিয়ে যায় জয়ের পথে। দুঃসময়ের চলতি মৌসুমে আগে ¯্রফে একটি গোল করতে পেরেছিলেন এই কিংবদন্তি, সেটিও ইউরোপা লিগে। এবার প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের প্রথম গোলে শুধু খরাই কাটেনি তার, পৌঁছে গেছেন ক্লাব ফুটবলে ৭০০ গোলের অনন্য মাইলফলকে। তার এই অর্জনে মুগ্ধ এরিক টেন হাগ। ইউনাইটেড কোচের মতে, এখন গোলের সঙ্গে নিয়মিতই সাক্ষাৎ হবে রোনালদোর। “৭০০ গোল করতে পারা মানে দারুণ ব্যাপার। অসাধারণ পারফরম্যান্স এটি। ওর জন্য আমি খুবই খুশি, অভিনন্দনও জানিয়েছি। এই গোলের জন্য ওকে বেশ অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তবে আমি নিশ্চিত, আরও গোল আসবে ওর।” “প্রতিটি খেলোয়াড়ের গোল লাগেই। গোলস্কোরারদের সঙ্গে কাজ করেছি আমি, প্রতি মৌসুমেই তাদের গোল প্রয়োজন, মানিয়ে নেওয়ার অনুভূতির কারণে। কিছু গোল পেয়ে গেলেই তারা সুরটা ধরে ফেলে, এরপর খেলা সহজ হয়ে যায়। ওর ক্ষেত্রেও এমনটিই হবে।” পারিবারিক কারণে প্রাক-মৌসুমে দেরিতে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া, ফিটনেস ফিরে পেতে সময় লাগা, ইউনাইটেডের একাদশে নিয়মিত জায়গা না পাওয়া, ম্যাচের পর ম্যাচ গোলবিহীন, সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময় একদম ভালো কাটছিল না রোনালদোর। তবে তার ক্যারিয়ার তো দারুণ ঝলমলে। সতীর্থের গোল গুনে যেমন হয়রান ব্রুনো ফের্নান্দেস। “রোনালদোর গোল গুনতে থাকা এখনও কঠিন। কারণ প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মনে হয় সে নতুন কোনো রেকর্ড গড়েছে।” জাতীয় দলে ও ক্লাবে রোনালদোকে কাছ থেকেই দেখেন ফের্নান্দেস। তার মতে, নিজের কীর্তির চেয়ে দলের জয়ই রোনালদোকে তৃপ্তি দিচ্ছে বেশি। “আমি সত্যিই খুশি, কারণ এই গোলটির জন্য সে অনেক পরিশ্রম করছিল। আজকে সে গোলটি পেয়েছে এবং দল জিতেছে। এটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে, দল জিতেছে।” রোনালদোর যেসব কীর্তি-অর্জন, পরিসংখ্যানের পাতায় যেসব আঁকিবুকি, এসবকে অনেক সময় পরবাস্তব কিছু মনে হয় এভারটন কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের কাছে। তবে সাবেক এই মিডফিল্ডারের চাওয়া ছিল, রোনালদোর মাইলফলক গোলটি তার দলের বিপক্ষে যেন না হয়। “খেলাটির সর্বকালের সেরাদের একজন সে। এই বয়সেও শারীরিকভাবে এতটা ফিট থাকা ও গোল করে যাওয়া, অস্বাভাবিক সংখ্যাগুলোকে বাস্তব রূপ দেওয়া, এসব আসলে অবিশ্বাস্য।” “যখন দেখেছিলাম যে তার গোলসংখ্যা ৬৯৯, চেয়েছিলাম যে সপ্তাহের মাঝামাঝি ইউরোপা লিগের ম্যাচে সে ৭০০তম গোলটি করে ফেলে। তবে ফুটবলে এরকম কিছু হয়ই।”