১৪২৩ কে বরণ করে নিতে ব্যস্ত জেলাবাসী

107

box pic (Small)মৌটুসী চৌধুরী

বাংলা সন ১৪২২ বিদায় নিচ্ছে। নতুন সন ১৪২৩ শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক দিন। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর সাথে সাথে বর্ষবরণের কেনাকাটায় তাই ব্যস্ত সময় কাটছে জেলাবাসীর। পরিবার পরিজনসহ নানা রঙের নতুন পোশাকে নিজেকে সাজাতে ভিড় বাড়ছে জেলার নিউ মার্কেট ও পাশের ফুটপাতগুলোতে। আর তাই নববর্ষের উৎসবকে ঘিরে দোকানীদের প্রস্তুতিরও কমতি নেই। জমকালো পাঞ্জাবী, দৃষ্টি নন্দন শাড়ি আর ছোটদের বিভিন্ন ডিজাইনের জামায় এবারেও তারা ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালিয়ানাকেই। উৎসবের দিনটিকে রঙিন করে রাখতেই শহরের মানুষেরা লাল, সাদাসহ বাহারি রঙে নিজেকে সাজাতে খুঁজে ফিরছেন পছন্দের সেই পোশাকটি। পহেলা বৈশাখের উৎসবে বাঙালিরা পোশাক কেনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন দেশীয় পোশাককে। এরকমই দেখা গেলো জেলার সেন্টু মার্কেটের সামনে ফুটপাতে গিয়ে, কেউ এসেছেন নিজের বাচ্চাদের জন্য আবার কেউবা পরিবারের অনান্য সদস্যদের জন্য। নাঈম তিনি তার ভাগ্নীর জন্য এসেছেন পহেলা বৈশাখের ফতুয়া কিনতে। রুসমা বলেন, এই দিনটি একটি বিশেষ দিন, এই দিনে পান্তা ইলিশের সাথে সাথে নিজেকে একটু অন্যরকম করে দেখার জন্য লাল সাদা বা বাহারি রঙে সাজতে এসেছেন জামা কিনতে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন এখনো বেচা কেনা জমে উঠে নি, আবার কেউ বলছেন বৈশাখ উপলক্ষে বেশ বিক্রি হচ্ছে। নিউমার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আশিক বলেন-এ বছর খুব একটা বিক্রি হয় নি তবে নুরুল ইসলাম বলছেন ক্রেতাদের চাহিদা বেশ ভালো আর বেচা-কেনা মোটামোটি হচ্ছে। শুধু জামাই না তার সাথে রয়েছে অলংকার। নারী-পুরুষ সকলে একসঙ্গে মেতে উঠেন বাংলা বছরের এই দিনটাতে। তবে পহেলা বৈশাখ মানেই শুধু পোশাক নয় পাশাপাশি সাজগোজটাও চাই। তাই নিজেকে অন্যদের তুলনায় একটু আলাদা দেখাতে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন পার্লারগুলোতে। পহেলা বৈশাখের আরো একটি বিশেষ দিক হলো নারীরা লাল সাদা শাড়ীর পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের মাটির অলংকার দিয়ে নিজেকে বাঙালির সাজে সাজিয়ে তোলে। ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে বৈশাখের প্রথম দিনে এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় যেন হয়ে উঠে আমরা বাঙালি। নিজেদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি ধরে রাখতে নতুন জামার পাশাপাশি পান্তা ইলিশের মধ্য দিয়ে বাঙালি বরণ করে নেয় বাংলা নববর্ষকে।